কোন কোন খাবার খুব সহজেই হজম হয়ে শরীরে শোষণ হয়। আবার কোন কোন খাবার হজম ও শোষণ হতে অনেক সময় নেয়। খাদ্য যত কমপ্লেক্স হবে, হজম হতে তত সময় নেয়।
যে সকল খাবার সহজে হজম হয়ঃ
শাকসবজী, ফলমূল, ডিম, মিষ্টি আলু, মাছ ইত্যাদি।
যে সকল খাবার হজম হতে অনেক সময় নেয়ঃ
গরুর মাংস, খাসির মাংস, ডেইরী ফুড, ফ্রাইফুড, বাদাম ইত্যাদি।
কোন জাতীয় খাবার আমাদের দেহে শোষিত হতে কত সময় নেয় জানা যাকঃ
পানি তাৎক্ষণিকভাবে দেহে শোষিত হয়।
চিনি, ফলের জুস ১৫–২০ মিনিটে মধ্যে শোষিত হয়।
ফল ২০ – ৪০ মিনিটের মধ্যে হজম হয়।
শাকসবজী ৩০–৪০ মিনিটের মধ্যে।
ডিম ৪৫ মিনিট।
মাছ ১ ঘন্টার।
মুরগী ১.৫ – ২ ঘন্টা।
ভাত ১.৫ – ২ ঘন্টা।
ডেইরী ২ ঘন্টা।
নাট (বাদাম) ৩ ঘন্টা।
গরু ও খাসির মাংস ৪ ঘন্টা।
(বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী এ সময় কিছুটা পরিবর্তনশীল)
গুরুপাক খাবার খাওয়ার পরেই সহজ পাচ্য খাবার খেলে তা পাকস্থলী ও অন্ত্রে আটকে থাকেএবং বদহজম, গ্যাস সহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। আবার রাতে গুরুপাক খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে বুক জ্বালাপোড়া, ঘুমের সমস্যা, পেটব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতেপারে। তাই নিম্নের নিয়ম মেনে চলুনঃ
সহজপাচ্য খাবার আগে খান এবং গুরুপাক খাবার পরে খান।
মূল খাবারের অন্তত ১ ঘন্টা আগে ফল খান। মূল খাবারের ২–৩ ঘন্টার মধ্যে ফল খাওয়া উচিত না।
মূল খাবারের প্রথম দিকে শাকসবজী খান এবং মাংস শেষের দিকে খান।
ঘুমের অন্তত ২ ঘন্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন। (বিষয় টি খুব ই গুরুত্বপূর্ণ সুস্থ থাকতে)
রাতে গুরুপাক খাবার, যেমন – গরু–খাসির মাংস, বাদাম, ডেইরী ফুড না খাওয়াই উত্তম।
সকালের নাস্তায় ডিম, মাছ, মাংস ইত্যাদি প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খান। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং দিনের ক্ষুধা কমে যাবে।
ঘনঘন খাওয়া পরিহার করুন। দুটো মিলের মধ্যে পর্যাপ্ত গ্যাপ দিন। স্ন্যাকস পরিহার করুন।
মূল খাবারের ১–২ ঘন্টা আগে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। আহারের মাঝে পানি পান করবেননা। খাওয়া শেষে ১ ঘন্টার মধ্যে বেশি পানি পান বন্ধ রাখুন।
সকালে খালি পেটে পানি পান করুন এবং সকাল ৮ টার আগে অন্য কিছু না খাওয়াই উত্তম।