বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের আগে উন্নত বাজারে অগ্রাধিকারভিত্তিক রপ্তানি সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মসৃণ উত্তরণের লক্ষ্যে তিন বছর পেছানোর চেষ্টা করছে সরকার।
আগামী নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের মধ্যে উত্তরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তা প্রয়োজন ।
গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘অ্যাডভান্সিং ইউএস-বাংলাদেশ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ বিষয়ক নীতিগত সংলাপে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদের সভাপতিত্বে সংলাপে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ইতিবাচক অবদান রাখলেও সামগ্রিক সম্ভাবনার তুলনায় তা এখনও কম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন বিনিয়োগে ওঠানামার প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। প্রযুক্তি স্থানান্তর ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং আইসিটি খাতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। পাশাপাশি আইসিটি, ফিনটেক, ই-কমার্স ও ডিজিটাল সেবা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
মাকিন রাষ্ট্রদূত বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি এআরটি একটি উৎকৃষ্ট চুক্তি, যা প্রতিযোগিতামূলক ১৯ শতাংশ শুল্কে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতায় কিছু পরিবর্তন আনে, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে সহায়তা এবং বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষা করে।
অ্যামচ্যাম সভাপতি তাঁর বক্তব্যে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।