নারায়ণগঞ্জ জেলার, রূপগঞ্জ থানার পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আগামীকাল (২১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা।রবিবার মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, রেস্টুরেন্ট ও স্টলের মোট সংখ্যা ৩৫১টি। মেলার সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। চলছে স্টল ও প্যাভিলিয়নের শেষ মুহূর্তের কাজ।
১৯৯৫ সাল থেকে যথারীতি বছরের প্রথম দিন থেকেই বসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম। ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে পেছানো হয়েছে মেলার ২৮তম আসর। নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকার ও নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন হওয়ায় মেলা বসার দিনক্ষণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিল মেলায় বরাদ্দ নেওয়া স্টল মালিক–শ্রমিকরা। তার অবসান ঘটিয়ে মেলা বসার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ।
দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। দেশীয় পণ্যেরপাশাপাশি প্রতিবছর ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য শোভা পায় এ মেলায়।
দুই বছর ধরে রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে(বিবিসিএফইসি) বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে শহরের শেরেবাংলা নগরেবাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতো। মূলত জনদুর্ভোগ এড়াতে বাণিজ্য মেলা মূল শহর থেকেপূর্বাচলে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।
এবারও মেলায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করা হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, উন্নত শিল্প সমৃদ্ধ–সোনার বাংলা বিনির্মাণে জাতির পিতারঅবদান ও ভাবনা, দেশের উন্নয়ন ইত্যাদিকে প্রক্ষেপণ করে এবারের বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নঅধিকতর নান্দনিক, ভাবগাম্ভীর্য ও অর্থপূর্ণভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে।
মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ওর্যাব নিয়োজিত থাকবে। পুলিশ, র্যাব মেলা প্রাঙ্গণ ও প্রাঙ্গণের বাইরে নিয়মিত টহল দেবে।
মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশ গেইট, পার্কিং এরিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সকলএলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, মেলার প্রবেশ গেটেপ্রয়োজনীয় সংখ্যক আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইভাবে অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে মেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে ফায়ার ব্রিগেড।
মেলায় খাদ্য দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পৃথক বুথথাকবে।। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ গঠিত টিম মেলা চলাকালীন প্রত্যহ ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য মেলায় স্থাপন করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সচিবালয়। দর্শনার্থীদের সকল প্রকার তথ্য প্রদানের জন্য রয়েছে একটি তথ্য কেন্দ্র। ব্যাংকিং সার্ভিসেরজন্য মেলায় থাকছে ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের একাধিকব্যাংক বুথ। এছাড়া, মেলায় থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের সার্ভিস বুথ। মেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়াও, সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড হতে মেলা প্রাঙ্গণপর্যন্ত বিআরটিসি ও কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসের ডেডিকেটেড সার্ভিসের ব্যবস্থা গ্রহণ করাহয়েছে। মেলা চলাকালীন এ বাস সার্ভিস চালু থাকবে।
মেলার প্রবেশ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা (প্রাপ্ত বয়স্ক) এবং শিশুদের (১২বছরের নীচে) ক্ষেত্রে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধীরা তাদেরকার্ড প্রদর্শনপূর্বক বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। মেলার টিকিট অনলাইনেওবিক্রয় করা হবে। বিকাশের মাধ্যমেও ডিসকাউন্টে টিকিট বিক্রি করা হবে।
উল্লেখ্য মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে (সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত)।