আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল)সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষ হয়েছে মিশ্র চিত্রে, যেখানে সূচক, লেনদেন এবং বাজার গভীরতায় স্পষ্ট হয়েছে বিনিয়োগকারীদের দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা।
আজ দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক সামান্য ১.৮৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২৫৬ পয়েন্টে। তবে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক কমেছে ০.২৯ পয়েন্ট, যা বাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, ব্লু-চিপ নির্ভর ডিএস৩০ সূচক ৬.০১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা কিছু বড় শেয়ারে সীমিত ইতিবাচক প্রবণতার প্রতিফলন।

আজ লেনদেনের দিক থেকে দেখা যায়, মোট ৮০৬.১৫ কোটি টাকার টার্নওভার হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম। মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার ট্রেডে এবং শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৩১ কোটি ৭০ লাখের বেশি।
আজ ১৩১টি কোম্পানির দর বেড়েছে, বিপরীতে ২০১টি কমেছে এবং ৬২টি অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, সূচক বাড়লেও বেশিরভাগ শেয়ারে ছিল বিক্রির চাপ।
সেক্টরভিত্তিক চিত্রে স্পষ্ট হয়েছে সেক্টর রোটেশন। ব্যাংক, টেক্সটাইল ও কিছু আইটি শেয়ারে ক্রয়চাপ থাকলেও ফার্মাসিউটিক্যালস, মিউচুয়াল ফান্ড ও কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং শেয়ারে দরপতন দেখা গেছে। দিনের লেনদেনে শেয়ার শেয়ার সংখ্যার দিক দিয়ে একমি পেস্টী, সিটি ব্যাংক, পিপলস লিজিং,এসপিসি সিরামিকস, ইস্টার্ন ব্যাংকের মতো শেয়ারগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

টপ গেইনার তালিকায় ছিল লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, ভিএফএস থ্রেড ডাইং, মির আকতার ইন্ডাস্ট্রিজ, এসপিসি সিরামিকসসহ বেশ কিছু শেয়ার, যেগুলো ৫ শতাংশের বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বোঝা যায়, বাজারে এখনো বিচ্ছিন্নভাবে ক্রয় আগ্রহ রয়েছে।

কেন এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া?
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সপ্তাহজুড়ে কিছু শেয়ারে ভালো রিটার্ন পাওয়ার পর শেষ দিনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার সংগ্রহের সুযোগ নিচ্ছেন, যা বাজারে একটি ভারসাম্য তৈরি করেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সেক্টর রোটেশন, এক খাতে দরপতন হলেও অন্য খাতে আংশিক সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। ফলে সূচক পুরোপুরি নেতিবাচক হয়নি, আবার শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও তৈরি হয়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান আমিরিকা যুদ্ধ ইস্যুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো আস্থার ঘাটতি ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে অনেকেই সতর্ক থাকছেন, যার প্রভাব পড়ছে লেনদেন ও বাজারের দিকনির্দেশনায়।
সব মিলিয়ে, সপ্তাহশেষে ক্রয়-বিক্রয়ের এই টানাপোড়েন, লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং সেক্টরভিত্তিক বিচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স বাজারকে স্পষ্ট কোনো ট্রেন্ড না দিয়ে ‘কনফিউশন’-এর মধ্যেই আটকে রেখেছে।