অর্থ লিপি

২১ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ফেব্রুয়ারির লিপ ডে কি ও লিপ্লিং শিশু কি?

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার হচ্ছে একটি বিশেষ বছর, যাতে সাধারণ বছরের তুলনায় একটি দিন (বা চান্দ্রবছরের ক্ষেত্রে একটি মাস) জোতির্বৈজ্ঞানিক বছরের সাথে সামাঞ্জস্য রাখার জন্য বেশি থাকে। জোতির্বৈজ্ঞানিক বছর বা পৃথিবী যে সময়ে সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসে তার উপরই ঋতুর পরিবর্তন ও অন্যান্য মহাজাগতিক ঘটনাবলীর পুনরাবৃত্তি নির্ভর করে।

এর সময়কাল হচ্ছে প্রায় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড, অথচ প্রচলিত গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জিমতে বছর হিসাব করা হয় ৩৬৫ দিনে। এভাবে প্রতিবছর প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় গোনার বাইরে থেকে যায় ও চার বছরে সেটা প্রায় এক দিনের সমান হয়। এই ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রতি চার বছর পরপর ৩৬৬ দিনে বছর হিসাব করা হয়।

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জিমতে, প্রতি চার বছরে একবার ফেব্রুয়ারি মাসে ও বাংলা সনমতে ফাল্গুন মাসে এই অতিরিক্ত ১ দিন যোগ হয়। তাই অধিবর্ষে ফেব্রুয়ারি ও ফাল্গুন মাস হয় যথাক্রমে ২৯ ও ৩০ দিনে। যেমন: ২০১২ একটি অধিবর্ষ ও এর ফেব্রুয়ারি মাস হয়েছে ২৯ দিনে।

অ্যালগোরিদম
কোন বছর অধিবর্ষ কিনা তা বের করার প্রোগ্রামিং সংকেতের সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হল :

function isLeapYear(year){
if((year % 400 === 0) || ((year % 4 === 0)&& (year % 100 !== 0) )){

console.log(`${year} is a leap year !`)

}else{

console.log(`${year} is not a leap year !`)

}

}

isLeapYear(2025);

 

ফেব্রুয়ারি মাসে একটা বাড়তি দিন যুক্ত হওয়ার ইতিহাস অন্য ভাবে জানতে গেলে হলে ফিরে যেতে হবে ২ হাজার ৬৬ বছর আগে। অর্থাৎ খ্রিস্টের জন্মের ৪৬ বছর আগে।

পৃথিবীতে তখন বছর হিসাব করা হতো একটু অন্যভাবে। সাধারণভাবে ধরা হত, ৩৬৫ দিনে শেষ হবে একটা বছর। কিন্তু এরমধ্যে একটা গলদ ধরা পড়লো। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে গ্রিক জ্যোতির্বিদ এবং গণিতবিদ সোসিজেনেস অব আলেকজান্দ্রিয়া ক্যালেন্ডারের হিসাবের সমস্যাটি তৎকালীন রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারকে বুঝালেন।

বিষয় ভালোভাবে বুঝে নিলেন সিজার। এবং তিনি একটি ক্যালেন্ডার বানাতে বললেন এবং পরবর্তী বছর (৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) থেকেই তা কার্যকরের নির্দেশ দিলেন। সম্রাট জুলিয়াস সিজারের নামেই সেই ক্যালেন্ডারের নামকরণ হলো- ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’।

ব্রিটানিকার তথ্যমতে, জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে বছরের হিসাবটা আগের ক্যালেন্ডারের থেকে একটু অন্যভাবে করা হল। দেখা গেল, একটা পার্থিব বছর শেষ হতে প্রকৃতপক্ষে ৩৬৫ দিনের কিছু বেশি সময় লাগে। সঠিকভাবে হিসাব করলে এক বছরে গড়ে ৩৬৫.২৪২১৯ সৌর দিবস (‘মিন সোলার ডে’) হয়। প্রতি বছরে গড়ে .২৫ দিন বেশি হিসাব করলে চার বছরে মোট একটি দিন বেশি হয়ে যায়।

দেখা গেল, পার্থিব বছরের সময়ের ক্ষয়ক্ষতির প্রায় পুষিয়ে দেয়া যায় চার বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে একটা দিন যোগ করে দিলে। এর সেই থেকেই জন্ম হল ২৯ ফেব্রুয়ারির। যার নাম ‘লিপ ডে’। আর এই দিনটি যে বছরে যুক্ত হয় সেই বছরটার নাম ‘লিপ ইয়ার’।

প্রতি চার বছর অন্তত একটি দিন যোগ করার সিস্টেম চলল প্রায় ১৬০০ বছর। এরপর ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে তদানীন্তন পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি ক্যালেন্ডারে ‘লিপ ডে’ আরও নিখুঁত ভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করলেন এবং নতুন ক্যালেন্ডার চালু করলেন। যা আজও পৃথিবীজুড়ে অনুসরণ করা হয়।

হিসাব করলে দেখা যায়, যেহেতু পার্থিব বছরের আয়ু ৩৬৫.২৪২১৯ গড় সৌর দিবস তাই প্রতি ৪০০ বছরে ৯৭টি দিন বেশি হয়। সেই দিনগুলিকে পার্থিব বছরের হিসেবের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হলে কোনও শতাব্দীর যে বছরগুলির শেষে দুটি শূন্য (০) রয়েছে তাকে ৪০০ দিয়ে ভাগ করতে হবে। যদি কোনো ভাগশেষ থাকে তাহলে সেই বছরগুলি লিপ ইয়ার হবে না। আর ভাগশেষ না থাকলে, সেগুলি লিপ ইয়ার হবে। এই কারণে ১৬০০ সাল ইয়ার হলেও ১৭০০, ১৮০০ এবং ১৯০০ সাল লিপ ইয়ার ছিল না। একইভাবে ২০০০ লিপ ইয়ার হলেও ২১০০, ২২০০ এবং ২৩০০ সাল লিপ ইয়ার হবে না।

জন্মদিন ও লিপার বেবি
যেসব শিশুর জন্ম লিপ ইয়ারে তাদেরকে লিপার/লিপ্লিং বলা হয়। এসকল শিশুরা তাদের প্রকৃত জন্মদিন ৪ বছর অন্তর পালন করতে পারে এবং সাধারণ বছরগুলোতে ২৮ ফেব্রুয়ারি অথবা ১ মার্চ তারা জন্মদিন পালন করে।

কিছু দেশে এ সম্পর্কে নীতি নির্ধারণ করা আছে। চীনে ১০ই অক্টোবর ১৯২৯ থেকে সিভিল কোড অনুযায়ী একজন লিপ্লিং এর আইনগত জন্মদিন সাধারণ বছরগুলোতে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৯০ থেকে হংকং এ একজন লিপ্লিং এর সাধারণ বছরগুলোর জন্য জন্মদিন ১লা মার্চ নির্ধারিত।

Author

  • টি এম মিলজার হোসেন একজন বাংলা ভাষার কবি। তিনি সর্বদা ব্যতিক্রম কবিতা লিখে থাকেন, তিনি স্রোতের বিপরীতে হাঁটা মানুষ। তার কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু দেশ, মানুষ, মনুষ্য প্রাণী, প্রকৃতি, মানব আদর্শ, হতাশা, দাহকাল, নরক ভূমি, সমসাময়িক অস্থির সময়, মনুষ্যত্ব বোধ, অধর্ম, হিংসা ও হিংস্রতা। তার কর্মজীবন মূলত পুঁজিবাজার নিয়ে। পুঁজিবাজার তার পেশা হলেও তার অপরিসীম ভালবাসা সাহিত্যে। তিনি নরওয়ে থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’র সাবেক মাল্টিমিডিয়া সম্পাদক। বর্তমানে  ‘ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কম’ এর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।