লিভার সুস্থ, আপনি সুস্থ : ৫ম ও শেষ পর্ব
কিভাবে লিভার ভাল রাখবেন?
যতক্ষণ লিভার ভাল থাকবে, ততক্ষণ আপনিও ভাল থাকতে পারবেন। আপনার লিভার ভাল থাকলে, আপনার রক্তের গ্লুকোজ লেভেল, কোলেস্টেরল লেভেল, রক্তচাপ, মেটাবলিজম, এনার্জি লেভেল ঠিক থাকবে। রক্ত হতে টক্সিন প্রশমিত হয়ে রক্ত বিশুদ্ধ থাকবে। আপনার হার্ট ও কিডনি অবাধে কাজ করতে পারবে। পর্যাপ্ত পিত্তরস তৈরি হয়ে খাদ্যপরিপাক ও শোষণ ঠিক থাকবে। অনেক ভিটামিন ও মিনারেল স্টোর থাকবে।
এই লিভারকে ভাল রাখতে কিম্বা সমস্যাগ্রস্ত লিভারকে আরোগ্য করতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনেচলুন :
১. টক্সিন প্রতিরোধ : এলকোহল পরিহার।ধুমপান পরিহার। ঔষধের ব্যবহার যথাসম্ভবকমানো /পরিহার।প্রসেসড ফুড, ফাস্ট ফুড, সফট ড্রিংকস পরিহার। ইন্ডাস্ট্রিয়াল তেল পরিহার। ডিপ ফ্রাই ফুডপরিহার। কীটনাশক ও ফরমালিনযুক্ত খাদ্য পরিহার/ নিয়ন্ত্রণ দূষিত বাতাস, দূষিত পানি থেকে দূরে থাকা।সাবান, শ্যাম্পু, কসমেটিক সামগ্রীর ব্যবহারকমানো/ পরিহার।
২. কার্বোহাইড্রেট (সুগার ও স্টার্চ) নিয়ন্ত্রণ : চিনি, ভাত, রুটি, ভুট্টা, আলু, ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ।ফলের জুস ও দুধ নিয়ন্ত্রণ।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ : শরীর থেকে বাড়তি মেদ ঝরানো।
৪. লিভার বান্ধব খাবার : প্রচুর রংবেরঙের শাকসবজি।উন্নত মানের প্রোটিন (মাছ, দেশিমুরগী, ডিম),উন্নত মানের ফ্যাট (অলিভ অয়েল, বাদাম, সীডস) ,কফি, গ্রিন টি (দুধ–চিনিছাড়া)। জাম্বুরা, আঙুর, নাশপতি, বীট, রসুন
৫. এক্সারসাইজ : সপ্তাহে ৫ দিন অন্তত আধা ঘন্টা ব্যায়াম।

৬. পর্যাপ্ত ঘুম : প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘন্টা কোয়ালিটি স্লিপ।
৭. ফাস্টিং : সপ্তাহে ২–১ দিন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং।আমরা যারা মুসলিম তারা সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখি সওয়াব ও হলো।
৮. পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতা : শরীর, হাত ধুয়া।অন্যের ব্যবহৃত ব্ল্যাড, রেজার, সূচ ব্যবহার নাকরা।অবৈধ যৌন সম্পর্কে না জড়ানো।
৯. পরীক্ষা : নিয়মিত লিভার টেস্ট করা। SGPT লিভারের রক্ত পরীক্ষা হল লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য একটি সাধারণ ডায়গনিস্টিক পরীক্ষা। SGPT হল একটিগুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটার যার স্তরগুলি আপনার লিভার সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা বুঝতে সাহায্য করে।
আবারও বলছি, লিভার ভাল রাখুন – অনেক রোগকে দূরে ঠেলুন।