শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চলতি সপ্তাহে টানা তিন দিন ধরে অফিসে আসছেন না বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ ও মো. মহসিন চৌধুরী।
জানা গেছে, বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার শামসুদ্দিন গত মাসে সরকারি সফরে কানাডা গিয়েছিলেন। এরই মধ্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান দেশে ফিরে এলেও তিনি গত তিন দিন অফিসে আসেননি। কমিশনার শামসুদ্দিন দেশে ফিরেছেন কিনা সেটি বিএসইসির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করতে পারেননি।
আরেক কমিশনার মো. মহসিন চৌধুরী দেশে থাকলেও তিনি তিন দিন ধরে অফিসে আসছেন না। বিএসইসির চেয়ারম্যান কানাডা যাওয়ার আগে রুমানা ইসলামকে চেয়ারম্যানের চলতি দায়িত্ব অর্পণ করে গিয়েছিলেন। রুমানা ইসলাম ও বিএসইসির আরেক কমিশনার ড. এটিএম তারিকুজ্জামান গত তিন দিন পুরো সময় অফিস করেছেন বলে জানা গেছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সংস্কারের দাবি তুলেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএসইসির কর্মকর্তারা সংস্থাটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগে বিরোধিতা করে সংস্কার চাইছেন। পাশাপাশি দেশের শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে সংস্কার চাইছেন তারা।
গত মঙ্গলবার বিএসইসি অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বিএসইসির কর্মকর্তারা পুঁজি বাজারের অধ্যাদেশ, আইন ও বিধিবিধানের বাইরে কোনো সুপারিশ বা কোনো ধরনের কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া গতকালও বিএসইসির কর্মকর্তারা এসব বিষয় নিয়ে বেশ সরব ছিলেন। এ সময় তাদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে কমিশনের অভিজ্ঞ সিনিয়র কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগ দিতে হবে।
বিএসইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগের কারণে তারা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ভূমিকা না রেখে স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। তাছাড়া তাদের পুঁজিবাজার সম্পর্কে কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে বাজারের উন্নয়নে সেভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন না। একসময় কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তথা নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে কমিশন অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে কমিশন এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অথচ এসব সিদ্ধান্তের দায় তাদের ওপরও এসে পড়ছে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএসইসির কর্মকর্তারা রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ করা চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের কার্যক্রমের দায় নিজেদের ওপর নিতে চান না। এ কারণে তারা সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা ও সাবেক কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাছাড়া বর্তমানে বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ দুই কমিশনার অনুপস্থিত থাকার কারণে কমিশনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র বলেন, ‘বিএসইসির শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে বিএসইসি ও পুঁজিবাজারকে গতিশীল রাখতে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। শিগগিরই আমাদের দাবি ও সুপারিশগুলো সরকারের কাছে পৌঁছানো হবে।