আজ রবিবার (১৪ই জানুয়ারি) সপ্তাহের ১ম কর্মদিবস দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের (ডিএসই) মূল্য সূচকের ও লেনদেন ইতিবাচক ধারাতে শেষ হয়েছে। আজ ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন গতদিনের চেয়ে বেড়েছে।
আজ ডিএসইতে মোট ৭৬৪.৯৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। গত কর্মদিবসে ডিএসইতে ৭৫২.৮৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। আজ গত কর্মদিবসের চেয়ে লেনদেন বেশি হয়েছে ১২.১০ কোটি টাকার।

আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ১.১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৬৩০২.৮০ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ২.৩২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৩৭৩.৫৯ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ১.৭০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১৯.৬১ পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৫৫ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৮১ টির, দাম কমেছে ৯৯ টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭৫ টি কোম্পানির।
আজ ডিএসইতে দাম বৃদ্ধির শীর্ষ ২০ তালিকার ৬ টি খাতের শেয়ার ছিল, এর মধ্যে ১০ টি শেয়ারই ছিল ইন্সুরেন্স খাতের শেয়ার। আজ দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় ইন্সুইরেন্স খাতের একক আধিপত্য ছিল।

আজ ডিএসইতে দাম বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ২০ টি শেয়ারের তালিকা।
অপরদিকে দেশের ২য় শেয়ার বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক কমলেও লেনদেন গতদিনের চেয়ে বেশ বেড়েছে। আজ সিএসই সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪.৯৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৮৬৬০.১৯ পয়েন্টে।
আজ সিএসইতে মোট ১৩.৩৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গতকাল ছিল ১১.১৬ কোটি টাকা। আজ সিএসইতে গত দিনের চেয়ে ২ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে।

আজ সিএসই তে মোট ১৯৮ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৮ টির, কমেছে ৬৪ টির এবং দাম অপরিবর্তিত ছিল ৭৬ টি কোম্পানির।
আজ সিএসইতে দাম বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা তালিকায় বিভিন্ন খাতের শেয়ার উঠে এসেছে। তবে আজ দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় ইন্সুইরেন্স খাতের একক আধিপত্য ছিল।

আজ সিএসইতে দাম বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ টি শেয়ার।
আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নিকুঞ্জ টাওয়ারে বেশ কয়েকটি হাউজের অফিসে গিয়ে দেখা গেল হাউজের অফিসারদের কিছুটা কর্মব্যস্ত থাকতে। পাশাপাশি আজ অনেক দিন পরে বেশ কিছু বিনিয়োগকারীদের হাউজে আসতে দেখা গিয়েছে।
অনেকদিন পরে ইন্সুইরেন্স খাতের শেয়ারের দাম বাড়াতে কিছু বিনিয়োগকারী অনেকদিন পরে হাউজের অফিসে আসলেন বলে জানালেন। ইন্সুরেন্স নিয়ে অনেকদিন আটকে থাকার কারণে কিছু কিছু ইন্সুইরেন্সের শেয়ার বিক্রি করে কিছু টাকা অন্য শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন বলে জানালেন বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী।
বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেল, ক্রয় উপযোগী ফান্ড হাতে থাকা সত্ত্বেও, আস্থার অভাবে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন না নতুন করে।
তাদের কথা বাজার যদি স্বাভাবিক হয় তাহলে বাজারে নতুন বিনিয়োগ করবেন। এছাড়া তাঁরা আরো বলেন বাজারে আস্থা ফিরে আসলে ফান্ডের অভাব হবেনা।৭০ উর্ধ্ব বয়সি একজন বিনিয়োগকারী মজা করে বলেন, বাজার ভালো করে দেন, বাজার ভালো হলে দেখবেন ভূতে টাকা জোগাবে বাজারে। বাজার স্বাভাবিক হোক দেখবেন বাজারে টাকার অভাব নেই। আমাদের লোকজন বাজার খারাপ থাকলে বিনিয়োগ করতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন।
বাজার নিয়ে সরকার একটু তদারকি করলেই বাজার ভালো হয়ে যাবে বলে মনে করেন বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী। বিনিয়োগকারীরা গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন বাজারে মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের গতি কখন আসে। তারা আশা করছেন বাজারের লেনদেন স্বাভাবিক হলে বাজারের গতি বাড়বে।