হঠাৎ বন্যায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। বন্যার্তদের সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের বেচাবিক্রি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এ সুযোগে কয়েকটি পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা ভাইদের দয়া করে পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন ব্যবসা হইতে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছে ব্যক্তি পর্যায়ের ত্রাণ দাতার।
সাম্প্রতিক বন্যায় ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামসহ ১১ জেলার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। বন্যার্তদের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের সংগঠন, সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের বেচাবিক্রি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এ সুযোগে কয়েকটি পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, বন্যার্তদের সহায়তার জন্য তিন দিন ধরে চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কুট, মোমবাতি, ম্যাচ, ওরস্যালাইন, বোতলজাত পানি, লাইফ জ্যাকেট ইত্যাদি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি চিড়ার দাম পাইকারি পর্যায়ে ৭-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মুড়ির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫-৬ টাকা। এক ডজন মোমবাতির দাম ২০ টাকার বেশি বেড়েছে। তারপরও অধিকাংশ দোকানে পণ্যটি মিলছে না।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার সহ বড় বাজারগুলিতে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই বন্যার্তদের সহায়তায় শুকনা খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দল ভিড় করতে থাকে। এক দল পণ্য কিনে ভ্যান বা পিকআপে তুলে নিয়ে যাচ্ছে তো আরেক দল পণ্য কিনতে আসছে। এ অবস্থা বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে।
গতকাল বিকেলে কারওয়ান বাজারের দেখা যায়, চিড়া-মুড়ির দোকানে বেশ ভিড়। এক দোকানে মুড়ি ও চিড়া কিনতে এসেছেন কয়েকজন ব্যক্তি। তবে ব্যবসায়ী ক্রেতাদের বলেন, এখন চিড়া-মুড়ি কোনটাই নেই। তাঁদের সন্ধ্যার পর যোগাযোগ করতে বলেন এই ব্যবসায়ী।
জানতে চাইলে উক্ত ব্যবসায়ী বলেন, তিন দিন ধরে ক্রেতাদের চাপ বেশি। গাড়ি আসার সঙ্গে সঙ্গে সব চিড়া-মুড়ি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য না আসায় অনেক ক্রেতাকেই ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। তারপরও গত তিন দিনে প্রায় ২০ টন চিড়া-মুড়ি বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।