আজ তিন বছর পূর্ণ হল চলমান রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের। এ যুদ্ধের কারণে প্রভাবিত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অর্থনীতি। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখেও রাশিয়া নিজেদের আর্থিক খাত শক্তিশালী করেছে। তবে ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যাচ্ছে ইউক্রেনের অর্থনীতি।
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই দিন থেকে দুই দেশের অর্থনৈতিক চিত্রে নাটকীয় পরিবর্তন আসতে শুরু করে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল অনুসারে, তিন বছরে রাশিয়ায় মুদ্রাস্ফীতি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ইউক্রেনে ১২ শতাংশ হয়ে উঠেছে যা উভয় দেশের নাগরিকদের জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবুও স্থিতিশীল রয়েছে রুশ অর্থনীতি। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে রাশিয়ার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল, যা যুদ্ধের শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার প্রমাণ।
পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাশিয়া বিকল্প বাণিজ্য রুট তৈরি করেছে। মস্কো তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিকেল ও প্লাটিনাম বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজেদের অর্থেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সমরাস্ত্রের উৎপাদন বাড়িয়েছেন। চীন ও ভারতের সঙ্গে জ্বালানি রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে কর্মসংস্থানও বেড়েছে। কিছু বিশ্লেষক দাবি করছেন, মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে রাশিয়ার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যদিও ইউরোপের কিছু দেশ এই বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। দেশটির জিডিপি ২০২২ সালে ৩৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল এবং এখনো প্রাক-যুদ্ধ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। পশ্চিমা ঋণ ও সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা সেখানে নিরাপত্তাহীনতা দেখছেন।
ইউক্রেনের শিল্পক্ষেত্র যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থার তুলনায় এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। যেমন, স্টিল উৎপাদন এখন মাসে প্রায় ০.৬ মিলিয়ন টন, যা যুদ্ধের আগে প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন ছিল। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এখনও চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, যেখানে বেকারত্বের হার প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ বলে জানা গেছে।
ইউক্রেনের পুনর্গঠনের জন্য আনুমানিক পাঁচ’শ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের সর্বোচ্চ সহায়তার প্রধান উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা এখন ৯৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক, মানবিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।
তিন বছরের যুদ্ধে ইউক্রেন তাদের ভূখণ্ডের প্রায় ১১ শতাংশ হারিয়েছে। আর ২০১৪ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সামগ্রিক হার ১৮ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া নিজের শর্ত মোতাবেক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারলেও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরশীলতা ইউক্রেনকে পিছিয়ে রাখছে।
এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যে আর্থিক ও মানবিক চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে, তা শুধু বর্তমানেই নয়, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করছে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।