অর্থ লিপি

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পোশাকের প্রবৃদ্ধি ভারত, চীন, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের চেয়ে বেশি

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অধীনস্থ অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলসের (ওটিইএক্সএ) পরিসংখ্যানে এ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।

জানা গেছে, গত দুই বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে ৭৮.৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে এমন উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ভারতসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশ।

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বিশ্ববাজার থেকে ২৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থমূল্য বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি পোশাক আমদানি করেছে ভিয়েতনাম থেকে। এর পরই রয়েছে যথাক্রমে চীন, বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তান। অর্থমূল্য বিবেচনায় চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির তৃতীয় সর্বোচ্চ উৎস হলেও আমদানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বাংলাদেশ থেকে।

জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ২৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হিসাবে ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেশি হয়েছে ২৯.৩৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় বাংলাদেশের পরই রয়েছে ভারত। আলোচ্য সময়ে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র পোশাক আমদানি করেছে ২০০ কোটি ৯ লাখ ডলারের। এ হিসাবে ২০২৪ সালের একই সময়ের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০.৩০ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় বাংলাদেশ ও ভারতের পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া। ২০২৪ সালের জানুয়ারি-এপ্রিলের তুলনায় ১৯.৭৯ শতাংশ বেড়ে চলতি বছরের একই সময়ে দেশটি থেকে পোশাক আমদানির অর্থমূল্য ছিল ১২৩ কোটি ৯ লাখ ডলার। কম্বোডিয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান।

প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় এর পরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির শীর্ষ উৎস ভিয়েতনাম। চার মাসে দেশটি থেকে আমদানি করেছে ৫০৮ কোটি ৯১ লাখ ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬.০৮ শতাংশ বেশি।

ভিয়েতনামের পর যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হওয়া দেশ হলো ইন্দোনেশিয়া। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র পোশাক আমদানি করেছে ১৬০ কোটি ১১ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫.৬১ শতাংশ বেশি।

প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় সাতটি শীর্ষ আমদানির উৎসের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে চীনা পোশাকের। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশটি থেকে ৪৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ০.৬ শতাংশ বেশি।

পোশাক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে পাল্টা শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা এ মুহূর্তে ৯০ দিনের স্থগিতাদেশের মধ্যে রয়েছে। দেশভেদে পাল্টা শুল্কারোপ হলে তার প্রভাব পোশাক পণ্যের ওপরেও পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির অন্যতম উৎস হিসেবে বাংলাদেশের ওপরও পড়বে। ফলে দেশটিতে বাংলাদেশী পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পারা নিয়ে রফতানিকারকদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।