অর্থ লিপি

৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নীতি সুদহার বাড়ানো হয়েছে, বাড়বে সব ধরনের সুদ

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৯ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। এর ফলে সব ধরনের সুদের হার বেড়ে যাবে এবং ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।নীতি সুদহার করিডর পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, আজ রবিবার(২৫ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির এক সভায় ওভারনাইট রেপো নীতি সুদহার বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিদ্যমান নীতি সুদহার ৮.৫০ শতাংশ থেকে ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে নতুন সুদহার ৯ শতাংশে নির্ধারণ করেছে।এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করার লক্ষ্যে নীতি সুদহার করিডরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুদহার ১০ শতাংশ থেকে ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০.৫০ শতাংশে এবং নিচের সীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ শতাংশ থেকে ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৭.৫০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে আগামী মঙ্গলবার থেকে সুদের হার বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ।

নীতি সুদহার বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজারে অর্থের সরবরাহ কমানো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি মনে করে, বাজারে অর্থের সরবরাহ বেশি এবং সে কারণে মূল্যস্ফীতির সূচক বাড়ছে, তাহলে অর্থপ্রবাহ কমাতে নীতি সুদহার বৃদ্ধি করে তারা। নীতি সুদহার বৃদ্ধির অর্থ হলো, ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত সুদ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ করতে হবে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে ঋণ দেয়, তার সুদহারও বাড়ে। নীতি সুদহার বেশি হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে নিরুৎসাহিত হয়।

বাংলাদেশে গত ১ যুগের মধ্যে গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার তথ্য প্রকাশিত হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ১১.৬৬ শতাংশে । গত জুন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭২ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল সর্বোচ্চ ১১।৯৭ শতাংশ। এরপর গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি আবার দুই অঙ্কের ঘর ছাড়ায়।

অপরদিকে  জুলাই মাসে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ১৪.১০ শতাংশে। বিবিএসের হিসাবে, জুনে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.৪২ শতাংশ। এই এক মাসের ব্যবধানে হঠাৎ খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশ অনেকটা বেড়ে যায়। এর আগে সর্বশেষ সর্বোচ্চ খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ২০১১ সালের এপ্রিলে, ১৪.৩৬ শতাংশ। এরপর আর কখনো খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশে ওঠেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার সর্বশেষ গত ৮ মে বাড়িয়েছিল। তখন মুদ্রানীতি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৮ শতাংশ থেকে ৮.৫০ শতাংশ করা হয়। একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারণের পদ্ধতি স্মার্টও (সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল) বাতিল করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন জানিয়েছিল, ব্যাংকঋণের সুদহার সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক করার লক্ষ্যে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।