শেয়ার বাজারে চলছে অচল অবস্থা,দেখার যেন কেউ নেই। যত দিন যাচ্ছে শেয়ার বাজারের ফান্ডামেন্টাল বা মৌলভিত্তিক ভালো শেয়ারের প্রতি মানুষের দিন দিন আগ্রহ কমে যাচ্ছে।অবস্থা এমন সমাজে যেমন ভালো মানুষের কদর নেই,শেয়ার বাজারেও তদ্রূপ অবস্থা।
মৌলভিত্তি ভালো শেয়ারের লেনদেন একে বারেই হচ্ছেনা ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে। মাঝে মধ্যে ব্লক মার্কেটে কিছু পরিমান শেয়ার ফ্লোর দামের কমে লেনদেন হচ্ছে।
উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এমন মৌলভিত্তি ভালো শেয়ারের কেনাবেচা নেই বললেই চলে। এইসব ভালো মানের শেয়ারগুলো বছরের পর বছর ভালো লভ্যাংশ দিলেও এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে প্রতি বিনিয়োগকারীদের এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ নেই বললেই চলে।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য মৌলভিত্তি ভালো শেয়ার গুলোর ফ্লোরের জন্য লেনদেন না হবার কারণে বিনিয়োগকারীদের এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ নেই বললেই চলে। তারা লেনদেন করার জন্যে সম্প্রতি লেনদেন হওয়া অনেক দুর্বল শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন। কেন দুর্বল শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন এই বিষয়টি জানতে ১০ জন সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ৩ টি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যা জানা গেল, তার সারমর্ম হয়েছে এমনেই অনেক ফান্ড আটকে আছে ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করে, নতুন করে আরো বিনিয়োগ করে কি বিপদে পরব? দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে লস হতে পারে জেনেও তারা রিস্ক নিচ্ছেন নগদ যতটুকু ফান্ড ফ্রি আছে তা দিয়ে কিছু উপার্জনের আশাতে।
মৌলভিত্তি ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করে ফ্লোরের কারণে আটকে থেকে ক্রয় ও বিক্রি করতে না পেরে অনেক হাউজের অফিসারদের ভৎসনা শুনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। মৌলভিত্তি ভালো শেয়ারের নিয়ে পোর্টফোলিও পরিচালনা করে এমন ৬ টি হাউজের বেশ কয়েক জন বড় কর্মকর্তার সাথে কথা বলে তাদের অসহায়ত্বের কথা শোনা গেল। তাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন ফ্লোর দেয়ার পরে তারা কোন লেনদেন করতে পারছেন না। হুমকির মুখে পরেছে তাদের পদ ধরে রাখা। কেননা কোন লেনদেন না করতে পারলে তাদের কোম্পানি আর কত বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিবেন।
ফান্ডামেন্টাল শেয়ার কিনে আটকে থেকে শতাধিক বিনিয়োগকারী ঢাকা শেয়ার বাজারের প্রতিবেদকদের ও ফোন করে তাদের বিভিন্ন আক্ষেপের কথা জানান এর মধ্যে দুটি মন্তব্য দেয়া হলোঃ
নতুন করে জানতে হবে ফান্ডামেন্টাল শেয়ার কাকে বলে ,বাজারে কেন যোগান ও চাহিদা অনুযায়ী লেনদেন হবেনা,কেন বিনিয়োগকারী তার ইচ্ছানুযায়ী শেয়ার ক্রয় বিক্রি করতে পারবেনা।কোন নিয়মে যোগান ও চাহিদার বিষয় টিকে বেঁধে রাখা হয়েছে।
অপরটি হলো
ফান্ডামেন্টাল শেয়ার লেনদেন না হওয়ায়, বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে,জনৈক প্রবীণ বিনিয়োগকারী আপ্সুস করে ঢাকা শেয়ার বাজার কে জানান ফান্ডামেন্টাল শেয়ার কিনে কি পাপ করেছি !
বাজারে যদি মৌলভিত্তি ভালো শেয়ারের লেনদেন দ্রত চালু না হয় একদল বিনিয়োগকারী বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন। অবশ্য ইতিমধ্যেই বেশ কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী যারা অল্প সময়ের জন্যে বাজারে আসত বিনিয়োগ করতো প্রয়োজনে আবার টাকা তুলে নিত, এই জাতীয় বিনিয়োগকারীরা এখন বাজারে ফ্লোর প্রাইজ থাকার কারণে বাজারে বিনিয়োগ করছেন না।
তাছাড়া প্রতিবছর কর রেয়াত পাওয়ার জন্যে জুনের আগে প্রচুর টাকা বাজারে বিনিয়োগ হত সেই টাকাটাও এই বছর বাজারে আসছেনা ফ্লোর আতংকে আতংকিত হয়ে। গতবছর কর রেয়াত পাওয়ার জন্যে অনেকে ভালো শেয়ারে টাকা বিনিয়োগ করে লাভ থাকা সত্তেও টাকা তুলতে না পেরে শেয়ার বাজারের প্রতি তাদের অনীহা চলে এসেছে। তারা কর রেয়াতের সুবিধা পাবে জেনেও নতুন করে এ বছর শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছেনা, শেয়ার কিনে আটকে যাওয়ার ভয়ে। এমনকি তাদের অনেকেই জানিয়েছেন শেয়ার বিক্রি করতে পারলে আর বাজারে থাকবেন না।
সার্বিকভাবে বাজার বিশ্লেষন করে দেখা যায় ফ্লোর প্রাইজ বাজারের স্বাভাবিকতা বন্ধ করে দিয়েছে। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ বাজারের কল্যানের স্বার্থে কিভাবে বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা যায়।