অর্থ লিপি

২২ জুলাই ২০২৬ বুধবার ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

মান সম্পন্ন শেয়ার লেনদেনে ফিরলে,বাজার চাঙ্গা হবে ফিরবে আস্থা

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ৩.৭২  শতাংশ কমেছে।এই নিয়ে ২ সপ্তাহে ডিএসইতে সার্বিক সূচক কমেছে ৬.২৬ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৩২.২৯ শতাংশ।

অপরদিকে  চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেরও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন কমেছে। স্টক এক্সচেঞ্জ দুইটির সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

শেয়ারবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০৫.০২ পয়েন্ট বা ৩.৭২ শতাংশ কমে ৫৩১২.৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫৫১৭.৪২ পয়েন্টে। এছাড়া গত সপ্তাহে  ডিএস-৩০ সূচক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩.৩৬ শতাংশ কমে ১৯০৭.৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১৯৭৩.৯৯ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৪.৩৪ শতাংশ কমে ১১৫৯.৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১২১২.১৬ পয়েন্টে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট ৪১১ টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৮ টির, কমেছে ৩৩৮ টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২০  টির দর। এছাড়া লেনদেন হয়নি ২৫ টির। ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৫১৭.৫০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল ৭৬৪.২৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৩২.২৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২,০৭০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ৩,৮২১ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৪.৬৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ঔষধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮.৪৪  শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ১০.৮৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে স্ত্র খাত।চথুর্থ অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল ৬.১০ শতাংশ।

আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে টেলিকমিনিউকেশন ও  পাট বাদে সব খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। নেতিবাচক রিটার্নের  শীর্ষে ছিল পাওয়ার খাত ৫২.৭২ শতাংশ , সেবা খাত ৮.৪৬ শতাংশ,আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৮.৩৪ শতাংশ  ও সিরামিক খাত ৭.৩৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩.৭৭ শতাংশ কমে ১৫৪০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৬০০৭ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে ৩.৮৭ শতাংশ কমে ৯২৬৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহে ছিল ৯৬৩৮ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ১৫৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২১৩.৩০ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৫ টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৯  টির, কমেছে ২৫২ টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৪ টির বাজারদর।

গত সপ্তাহের সার্বিকভাবে  বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেল গত সপ্তাহে কোন একক খাতের আধিপত্য ছিলনা।গত সপ্তাহে বাজারের বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীদের চরম হতাশার বাজার ছিল।বাজারে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ইস্যুতে বাজার ছিল টালমাটাল ,যে কারণে বাজারে তেমন কোন মুভমেন্ট না থাকার কারণে বাজারে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী সাইড লাইনে থেকে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।

গত সপ্তাহের সার্বিকভাবে  বাজার পরিস্থিতি টেক্নিকাল এনালাইসিস দিয়ে পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় ,সম্প্রতি সূচক যে পয়েন্ট থেকে ইতিবাচক হয়েছিল সেই পয়েন্টের নিচে চলে এসেছে,সূচক ৫৩০০ এর কাছে গিয়ে গত সপ্তাহের শেষ দিন সূচক সাপোর্ট পাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।এর আগে টানা ৮ দিন পতনের পরে সবসময় ই সাময়িকভাবে বাজার ইউটার্ন নিয়েছিল,সে  হিসাবে রবিবার অথবা সোমবারে বাজার চিত্র ইতিবাচক হবে বলে ধারণা করছেন যারা টেক্নিকাল এনালাইসিসের মাধ্যমে বাজার পর্যালোচনা করে থাকেন।

বাজার বিশ্লেষকেরা আশা করছেন সম্প্রতি ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বিষয় টি নিয়ে মানুষের মধ্যে এক অজানা ভিতি কাজ করছে,গেইন ট্যাক্স  ইস্যুর সমাধান হলে এবং  মান সম্পন্ন শেয়ার লেনদেনে ফিরলে বাজার চাঙ্গা হবে পাশাপাশি বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।বাজারে কম মান সম্পন্ন শেয়ারের অস্বাভাবিক আচরণ প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের বাজার বিমুখ করে রেখেছে।আর বাজারে ফান্ডামেন্টাল শেয়ারের স্বাভাবিক লেনদেন না হলে দেশের প্রকৃত বড় বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হননা শেয়ার বাজারের বিনিয়োগ করতে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।