বিদেশ ভ্রমণ ইদানিং কালে আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি হারে বেড়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন বেশ ভ্রমণ পিপাসু ও ভ্রমণ বিলাসীও বটে। আমাদের দেশে একটা অংশ আছেন যারা জীবিকার তাগিদে মধ্যপ্রাচ্য সহ ইউরোপ আমেরিকায় অবস্থা করছেন। তারা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভুমিকা পালন করছেন, তারদেরকে সম্মানের সহিত বলা হয় রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
বিদেশ ভ্রমণ বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই নানান অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানিও বেড়ে গেছে। যারা দেশে নিতমিত দেশে আসছেন আবার ফিরে যাচ্ছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিদেশ ভ্রমন করতে গিয়ে অনেক সময় পরতে হয় অস্বাভাবিক যন্ত্রণায়। বিশেষ করে লাগেজ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ট্রানজিট বিমানে কিংবা ব্যস্ততম বিমান বন্দরে।
গন্তব্যে পৌঁছে বেল্টে নিজের লাগেজ চিনতে বেগ পেতে হয়। একই রকম দেখে ভুলে অন্য কারো ল্যাগেজ নিয়ে চলে আসা! এতে দুজনেরই বিপদ।বেল্টে লাগেজ দ্রুত চিনতে পারাটাও জরুরী।
এক্ষেত্রে নিজের করণীয় কিছু বিষয়
১। লাগেজের হাতলে নানা রকম আইকনিক ফিতা লাগিয়ে রাখতে পারেন।
২। পছন্দ মত স্টিকার ডিজাইন করে আপনার লাগেজে পেস্ট করে নিতে পারেন।
৩। লাগেজে এক ধরণের বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন, যোগফলের মত নাম্বার উল্লেখিত।
৪। অর্ডার দিয়ে কাপড়ের কাভার তৈরী করে লাগেজ ঢেকে নিতে পারেন জিপার সিস্টেমর, এতে করে ময়লা কম হবে, লাগেজ থাকবে নিরাপদও।
৫। সবচেয়ে ভালো হয় নাম, ঠিকানা, গন্তব্য ও পাসপোর্ট নাম্বার উল্লেখ করে ল্যাগেজে ভালো করে লাগিয়ে নেয়া।
৬। লাগেজ ছিঁড়া ফাঁটা, কখনো কাটা দেখতে পাওয়া যায়! এমন কিছু দেখামাত্র কর্তৃপক্ষের নজরে আনুন।
বিমানবন্দরে লাগেজ বা ব্যাগের তালা ভাঙ্গা পেলে কিংবা ব্যাগের মালামাল খোয়া গেলে কী করণীয়
আপনার টিকেটিং এর নিয়ম অনুযায়ী কোন কিছু হারানো গেলে চুরি হলে বা লাগেজ ড্যামেজ হলে আপনি অভিযোগ করতে পারবেন, সে অধিকার আপনার আছে।
মালামাল হারালে, লাগেজ ড্যামেজ হলে, বা চুরি হলে সেটা অবগত হওয়ার সাথে সাথেই আপনি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স অথবা হারানো প্রাপ্তি অভিযোগ কেন্দ্রে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন, এবং তার ২১ দিনের মধ্যে আপনি একটা প্রতিকার পাবেন।
সেক্ষেত্রে একটা ডকুমেন্ট থাকে লিখিত অভিযোগ থাকে, যেটা নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করা হয়। এবং আপনি যথাযথ একটা ক্ষতিপুরন পাবেন। এয়ারলাইন্স গুলোর সব কিছু ইন্স্যুরেন্স করা থাকে, তারা তখন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে রিপোর্ট জমা দেয়, সেই সাথে বিস্তারিত জানাতে হয় কিভাবে হয়েছে সভাবতই সব কিছু একটা তদন্তের আওতায় চলে আসে।
শুধু একটা ফরম ফিলাআপ করে আপনাকে রিপোর্ট করতে হবে সাথে কি কি জিনিস ছিল তার একটা লিস্ট।
এতে করে একটা সিস্টেম রান করে। দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত হয়। সিকিউরিটি সিস্টেম আপডেট হয়। একটা কার্যকর ব্যাবস্থা নেয়া হয়। উভয়পক্ষেরই লাভ। চুরির পরিমাণ ও আস্তে আস্তে কমবে।
সাতদিনের মধ্যে লাগেজ না আসলে এয়ারলাইন্স ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে, এবং পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবে।
এমন ও অভিজ্ঞতা দেখা গিয়েছে যে ২৫ দিন পরেও অভিযোগ করে একটা মিসিং ব্যাগ পাওয়া গিয়েছে।
দরকার আমাদের সচেতনতার। আপনাকে রিপোর্ট করতে হবে। হাত গুটিয়ে বসে থাকলে দিন দিন এদের দৌরাত্য বাড়বেই আর আমাদের ও ভোগান্তি কমবে না।
একটি লাগেজ ভ্রমনের আনন্দকে মাটি করে দিতে পারে। একটু সতর্ক হলে এ থেকে মুক্তি পেতে পারি। সবার ভ্রমন হউক আনন্দময় ও নিরাপদ।