নানান জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শেয়ারবাজারে ৩৫টি কোম্পানি ছাড়া বাকি সব শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বা ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ই জানুয়ারি) ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার আদেশ জারি করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আদেশে বলা হয়েছে, সরকারের নির্দেশনা মেনে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা আগামীকাল রবিবার(২১শে জানুয়ারি ) এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
ফ্লোর উঠে যাওয়ায় আতংক ছড়িয়ে পরেছে ছোট বড় সব শ্রেনীর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে, সাধারণ বিনিয়োগকারীর সম্ভাব্য করণীয় কি? এই বিষয় নিয়ে লেখা অত্যান্ত দূরহ ও ঝুঁকিপূর্ণ ও বটে, এই লেখাটা মনে হতে পারে বিনিয়োগকারীদের প্যানিক দেয়া, আবার মনে হতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বৃদ্ধাংগুলি দেখানো। যদি না লিখে থাকা যেত তাহলে অত্যান্ত বুদ্ধিমানের কাজ হতো। কিন্তু আপনাদের বহু মানুষের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারিনা।
আমি শুধু আমার নিজের অবর্জাভেশান গুলো তুলে ধরবো, আমার এই উপস্থাপনা কাউকে কোন শেয়ার ক্রয় অথবা বিক্রি করতে বাধ্য করে না। শেয়ার মার্কেট অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ তাই জেনে বুঝে বিনিয়োগ করবেন।
যেহেতু ফ্লোর আরোপ করা হয়েছে, সেটা আজ হোক বা কাল, অথবা ২ বছর পরে তুলে দেক, ঠিক আজকের মতোই প্রতিক্রিয়া আসতো। হাঁহাঁকার আগেও ছিলো, বর্তমানে আছে আর ভবিষ্যতে ও থাকবে। তাই সবাইকে বলবো সময় উপযোগী নেয়ার জন্য, বিনিয়োগকারীর মতো আচরন করার জন্য।
দয়া করে কেউ এমন প্রশ্নের অবতারনা করবেন না, কেন ফ্লোর দিলো, আবার কেনইবা তুলে নিলো… এতে শুধু বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে নিজের দোষ অন্যের উপর তুলে দিয়ে নিজেকে হালকা ভাবা যায়।
এবার মূল কথায় আসি
১। আমার মনে হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা যেভাবে তেতে আছে তাতে আগামী রবিবার ইম্পেক্টটা পজেটিভের থেকে নেগেটিভই হবে।
কেন এমন বললাম
যারা এত দিন ফ্লোরে আটকে ছিলেন তারা নিজের মুক্তি মনে করে রক্তের হলি খেলায় অংশ নিবে।
যারা বিনিয়োগকারী তারা যেহেতু সংখ্যায় কম তারা স্রোতের বিপরীতে খুব বেশী সময় থাকতে পারবে না, হয়তো শেষে তারা ও ঘিতে আগুন ঢেলে সেই তেজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
আর যারা গেমলার আছে তারা আপনাকে আমাকে নিয়ে ধৈর্যের চুড়ান্ত খেলা খেলতে পারে, যখন আপনি আপনার ধৈর্য ধরে রাখতে পারবেন না, তখন আপনি ও ভুল করতে বাধ্য।
যদি উপরোক্ত পয়েন্ট গুলো ঘটেই যায়, তাহলে ছোট শেয়ার, বড় শেয়ার, ভালো শেয়ার, পচা শেয়ার কেউ বাদ যাবে না, মাইর খাওয়া থেকে।
২। যদি বিনিয়োগকারীর মতো আচরন করি, যদি কেউ সেল না দেই তাহলে এইখান থেকে ঘটে যেতে পারে শেয়ার মার্কেটের বিপ্লব, ১/২ ঘন্টাতে প্যানিক থামলে, শেয়ার + ইন্ডেক্সের আপট্রেন্ড লক্ষ করা যেতে পারে।
আপনি আমি যদি সেল না দেই তাহলে এই ঘটনা ঘটতে বাধ্য।
৩। যারা বিনিয়োগকারী তারা এত দিন ফ্লোরে থাকলেও বিরক্ত না, তারা জানে তারা শেয়ার মার্কেট থেকে গেইন করতে এসেছে সেটা ক্যাপিটেল গেইন-ই হতে হবে এমন নয়, তারা ডিভিডেন্ড খেয়েছে, কস্ট প্রাইজ কমিয়েছে, যদি মার্কেট তার কস্ট প্রাইজের নিচে মানে ডিস্কাউন্ট রেটে দেয়, তবে তারা আরো বিনিয়োগ করবে এটা আমার বিশ্বাস। এখন কথা হচ্ছে আপনি কি সেই বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন? হয়তো নেন নাই, হয়তো নিয়েছেন। যদি নিয়ে থাকেন তাহলে আপনার রাগ বা ঘোস্যা করার কিছু নাই। ঝড় ঝাপটা কমার পরে পরিবেশ যখন শান্তের দিকে যাবে তখন ই বিনিয়োগকারী গন তাদের ক্যাপিটেল ব্যাবহার করা শুরু করে।
“কিনুন, যখন শেয়ার মার্কেটে রক্ত ক্ষরন হয়, যদি তা আপনার নিজের রক্ত ও হয়, তবু কিনুন”
এটাই শেয়ার মার্কেটের রুলস। মানলে ভালো, না মানলে আপনাকে কেউ বাধ্য করবে না।
৪) ভাইরে ভাই, একটু মনে করে দেখুনতো, নিজের কাছের আপন জন যখন দুনিয়া ছেড়ে চলে যায়, তখন মনে হয় এই শোকে আপনি নিজেও বাঁচবেন না, কিন্তু ৩ দিন যেতে না যেতে, সব ভুলে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।
তাই যতটা গর্জে বাস্তবে ততটা বর্ষে না।
মার্কেট রিএকশান নিয়ে আমরা একটু বেশীই ভাবছি হয়তো এমন কিছুই হয়তো গঠবে না।।
আমাদের করণীয় কি? এটা নিয়ে আমি শেষ প্যারাতে লিখবো। একটু অপেক্ষা করেন।
আমার নিজের উপলব্ধি মার্কেট নিয়েঃ
আগে আমার এই ৩ (তিন) টি প্রশ্নের উত্তর দেনঁতো!
১) Floor দেয়ার আগে কারা বেশি লাভ করেছিল ? উত্তরঃ মামুরা (স্মার্টরা)
২) Floor দেয়ার পর কারা বেশি লাভ করছে ? — উত্তরঃ মামুরা!(স্মার্টরা)
৩) Floor উঠানোর পর কারা বেশি লাভ করবে ? — উত্তরঃ মামুরা!(স্মার্টরা)
দেখুনতো, সব গুলোর উত্তর-ই মামু বা স্মার্ট বিনিয়োগকারীরা
এবার নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন, তারা কারা, তারা কি ভিন্ন গ্রহ থেকে এসেছে, তারা খায় কি? তাদের মাথায় কি আছে?
উত্তরঃ তারা আমার মতো আপনার মতো মানুষ, তারা আমাদের মতোই খায়, মাথায় আমার-আপনার সমান-ই মগজ আছে।
নিজেকে স্মার্ট করে গড়ে তুলুন, মামু নামের জুজু বা অলিক কল্পনার পিছনে ছুটবেন না।
২১/০১/২০২৪ ফ্লোর কার্যকর হচ্ছে, ফ্লোর উঠানোর ফলে আমজনতা প্যানিক হয়ে শেয়ার ছেড়ে দিবে আর স্মার্টরা কম দামে হিউজ পরিমান শেয়ার হাতিয়ে নিবে! এবং একটি সময় আমজনতার ডিস্ট্রিবিউশন শেষ হলে এরপর স্মার্টরা সেই স্টকের ডিমান্ড বাড়াবে দাম বাড়াবে আর বড় বড় গ্রীন ক্যান্ডেল বানাবে! তখন আমাদের মার্কেটের অনেক এনালিস্ট কেন্ডেল দেখে ঝাপিয়ে পড়বে, বাই কনফার্মেশান সিগনাল দেখে, আর তখনি স্মার্টরা ডিস্ট্রিবিউশান বা লাভ নেয়া শুরু করবে আর আমরা কিনে ধরা, তার পর স্টপ লস নিয়ে বিদায়। স্মার্টরা একটা কারেকশান বা রিট্রেসমেন্ট শেষে আবার একুমুলেশান করে করে সামনে এগিয়ে যাবে, সুন্দর সুন্দর ক্যান্ডেল হবে, চার্ট প্যাটার্ণ হবে, আমরা হয়তো এইবার আর ভুল করবো না, এভাবেই আমরা শিখবো, ভুলের মাত্রা কমতে থাকবে, এভাবেই আমরা স্টাবল মার্কেট পাবো, এই প্রত্যাশা করছি।।
করণীয়ঃ আমার মতে ২ (দুই) টা কাজ করতে পারি
১) নিজের এনালাইসিজের উপর যদি আস্থা থাকে তাহলে চুপ করে বসে থাকুন, যদি কোন খারাপ শেয়ার আপনার থেকে থাকে, তাহলে বিদায় জানিয়ে ক্যাপিটেলের পরিমান বাড়ানো, তার পর ডিস্ট্রিবিউশান বা কারেকশান শেষ হলে ধিরে ধিরে নিজের এনালাইসিজের শেয়ার গুলো ঘরে তুলুন। বিনিয়োগ লজিক্যাল ওয়েতে হবে, লংগার ভার্সানে আপনি গেইনার।
২) দ্বিতীয় টা কস্ট সাধ্য তবে ক্যালকুলেটিভ, তার নাম দিয়েছি আমি Stop loss against Brine এই কাজটা করতে আপনার ব্রেইন শায় দিবেনা, কিন্তু করতে পারলে ভালো।
আপনার প্রিডিকশান মার্কেট পড়বেই… আপনার হাতে ক্যাশ নেই, যদি এমন মনে হয়, তাহলে খুব কষ্টসাধ্য এই কাজটা করা যেতে পারে। ভাবছেন ১৫/২০% করে যদি মার্কেট পড়ে তাহলে ৫০/৬০% আপনার শেয়ারটি কমে যেতে পারে, হাতে ক্যাশ নেই যে সেটা কম দামে কিনে নিবেন। তাহলে শুরুতেই ১০% লসে হলে ও সেল করে দিতে পারেন, এতে ৪০/৫০% সেভ হতে পারে।
এইবার বিচারকের ভূমিকাতে অবতীর্ণ হতে পারেন, আপনার ছেড়ে দেয়া শেয়ার গুলো কত দাম থেকে উঠি উঠি করছে, সেখানে ৫০% ধরে ফেলুন, ধাপে ধাপে। এটাকে বলে “শেষ থেকে শুরু” ।।
১৫ % লস করে ৪০/৫০% ক্যাপিটেল সেভ এটাও লাভের অংশ। যদি আপনার শেয়ারটি বাড়ার জন্য ৬ মাস ৯ মাস অপেক্ষা ও করে সেখানে আপনি ফ্রিডম।।
A L T E R N A T I V E M E T H O D
শুরুতে সেল করার পরে যে ফান্ড আপনের হাতে থাকবে, সেটাকে ৪ দিয়ে ভাগ করুন, ধরুন ১০০ টাকা ৪ দিয়ে ভাগ করলে ২৫ টাকা, এই ২৫ টাকা দিয়ে আপনি ক্ষেপ খেলতে যেতে পারেন, মার্কেট যখন কোন একটা স্টক বাড়বে বাড়বে ভাব করছে আপনি ২৫ টাকা ইউজ করতে পারেন, বাকী ৭৫ টাকা পকেটেই থাকবে। এই ভাবে ২৫ টাকা বা ২৫% ব্যাবহার করে করে আপনার কনফিডেন্স ফিরিয়ে আনলেন, আর কিছু লাভ ও পকেটে ডুকলো। এটা মন্দ নয়, আমার মতে…
♦️এইবার আপনার কাজ কিন্তু বেড়ে গেলো, স্কিল বাড়ান, প্রতিনিয়ত শিখার চেস্টা করুন। কোন শেয়ারটি কোন দামে গেলে আপনি বাই করতে ইচ্ছুক, সেটা নির্ধারন করে নোট বুকে লিখে ফেলুন।
♦️একটি সম্ভাবনাময় মার্কেটের জন্য শিক্ষিত ও জানাশুনা বিনিয়োগকারীর খুব দরকার। যারা বিনিয়োগকারীর মতো বিহেব করবে না, তারা যত দ্রুত নিজের হোল্ডিং সেল করে বিদায় নিবে, তত দ্রুতই মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে।
♦️ আপনি যে শেয়ারটি হোল্ড করে আছেন সেগুলো ইনট্রেঞ্জিক ভ্যালুতে আছে কি? যদি থাকে তাহলে সেলের আগে ভেবে দেখুন।
♦️ পুঁজি রক্ষা অথবা মুনাফা করার কঠিন যুদ্ধ শুরু। সব চেয়ে সহজ কাজটা হবে লস করা!! আপনি কোনটি করতে চান? সিদ্ধান্ত একান্তই আপনের।
♦️ স্রোতের বিপরীতে আপনাকে নৌকা বাইতে বলছি না, আবার বালুর বাঁধ ও দিতে বলছি না, আগামীকাল থেকেই ঠিক করে দিবে স্রোতের গতি পথ। আমি আপনি চাইলেই বাঁধ দিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবো না ।
লেখার ইতি টানতে চাইছি, লম্বা লেখার জন্য ক্ষমা প্রার্থী।
যারা শেয়ার ব্যবসা করেন আমার পেইজ টি (পেইজের লিংক: https://www.facebook.com/OnlineInstituteofStockMarketStockMarket ) লাইক ফলো দিয়ে সাথে থাকতে পারেন,আশা করছি আপনারা উপকার পাবেন।
প্লিজ বিনিয়োগকারীর মতো আচরন করুন। কেউ আপনাকে শেয়ার সেল করতে বাধ্য করতে পারবে না, যদি না আপনি বিক্রি করেন, লম্বা সময়ের জন্য ভাবুন, রিয়েলিটির সাথে ভাবুন, কল্পনাতে নয়। এখানে আবেগি কথাবার্তা অযৌক্তিক।
তাই নিজের আবেগকে কন্টোল করলে আপনার আমার পুঁজি রক্ষা পাবে, অনেকে সুযোগের সতব্যাবহার করে ভবিষ্যতের বড় মুনাফা করবে। এখন সিদ্ধান্ত আপনার।
ওয়ারেন বাফেটের বিখ্যাত উক্তি দিয়ে শেষ করলাম “অধৈর্য ধারিদের টাকা ধৈর্য ধারিদের পকেটে যায়”
ধন্যবাদ