অর্থ লিপি

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য বাড়ছে, কমেছে ভারত থেকে

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৬ বছরের আমলে পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্যে বিদ্ধেষপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বাংলাদেশের। তবে সেই অবস্থার পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

ক্ষমতার পালাবদলের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বৈরিতার অতীত ভুলে সম্পর্ক বিনির্মাণে ইতিবাচকভাবে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে দেশটির সঙ্গে বাড়ছে বাণিজ্যও। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে।

দেশ দুটির সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানির তথ্য পর্যালোচনা করে এমন চিত্র দেখা গিয়েছে। এতে দেখা যায়, ভারতের থেকে আনুপাতিক হারে আমদানি কমে বিপরীতে দেশটিতে রপ্তানি কিছুটা হলেও বেড়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মাত্রা আসার পর থেকে দুই দেশের বাণিজ্যেও তার ইতিবাচক চিত্র লক্ষ্যণীয়। দেশটির সঙ্গে বেড়েছে আমদানি ও রপ্তানি দুটোই।

ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে গড় আড়াই বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোনো দেশের সঙ্গেই বাণিজ্যে অনুকূল অবস্থা নেই বাংলাদেশের। দুটি দেশ থেকেই রপ্তানির তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ আমদানি করা হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিরাপত্তার যুক্তিতে দেশটি থেকে আমদানি করা বেশির ভাগ পণ্য ‘লাল তালিকাযুক্ত’ করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ‘লাল তালিকামুক্ত’ করে এনবিআর। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশে উৎপাদনমুখী পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে পাকিস্তানি তুলা, সুতা ও কাপড়ের চাহিদা আছে। দেশটির শিশুখাদ্য, জুস, কাটলারি ও অস্ত্রোপচারের সরঞ্জামেরও বড় বাজার রয়েছে দেশে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, প্রতিবেশী ভারতের কাছ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ তিন কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৩ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করেছে। যার বাজারমূল্য এক লাখ ১৬ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানির পরিমাণ কম হলেও বেড়েছে আমদানি মূল্য।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে দুই কোটি ৭১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭০ মেট্রিক টন পণ্য আমদানির বিপরীতে দেশটিকে পরিশোধ করতে হয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আনুপাতিক হারে অনেকটাই কমেছে আমদানি। এ সময়ে দেশটি থেকে আমদানি হয়েছে এক কোটি ২৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩০ মেট্রিক টন পণ্য; যার বিপরীতে পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৬ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। পণ্যের পরিমাণের হিসাবে আমদানি কমেছে। তবে বিপরীতে দেশটির সঙ্গে রপ্তানি কিছুটা হলেও বেড়েছে।

তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতে ১৭ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। পরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ প্রায় অপরিবর্তিতই থেকেছে। রপ্তানি হয়েছে ১৭ হাজার ৪২৫ কোটি টাকার পণ্য। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি হয়েছে ১১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকার।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।