নবজাতকের জন্মের পরপর করণীয় বিষয় সমূহ
১। সদ্য জাত শিশু বা নব নবজাতককে ধরা, কোলে নেওয়া এমনকি ছোঁয়ার পূর্বে হাত অবশ্যই সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
২। জন্মের সাথে সাথে একটি পরিষ্কার কাপড় বা কাঁথা দিয়ে শরীরের ভিজা অংশ চেপে চেপে মুছে নিতে হবে। তবে শরীরের সাথে লাগানো সাদা মোমের মত প্রলেপ (ভারনিক্স) ঘষে তোলার প্রয়োজন নেই, ইহা নবজাতককে সংক্রামন ও তাপ কমে যাওয়া হতে রক্ষা করে।
৩। এরপর অপর একটি কাপড় বা কাঁথা দিয়ে নবজাতককে সম্পূর্ণরূপে জড়িয়ে দিতে হবে।
৪। একটি পরিষ্কার জীবনুমুক্ত নরম কাপড় দিয়ে মুখের ভিতর এবং নাক পরিষ্কার করে দিতে হবে।
৫। নবজাতককে উষ্ণ বা গরম রাখতে হবে। এক্ষেত্রে মায়ের শরীরের সাথে শিশুকে রাখলে নবজাতকের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
৬। জন্মের সাথেই নাড়ি কাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৭। নারী কাটার সময় নবজাতক ও মাকে একই সমতলে রাখতে হবে।নবজাতক জন্মের সাথে সাথে গর্ভফুল বের হওয়ার পূর্বে নারী বাঁচতে হবে।
৮। জন্মের পর নবজাতকের কান্না শোনা যায়। সাধারণত শরীরের লেগে থাকা পানি মুছতে মুছতেই নবজাতক কেঁদে ওঠে। কান্নার সাথে সাথে নবজাতকের ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত হয়। যদি নবজাতক জন্মের এক মিনিটের মধ্যে এই প্রক্রিয়ায় না কাঁদে তবে হাতের তালু দিয়ে পিঠের মেরুদন্ড বরাপর উপর থেকে নিচে ঘষা দিতে হবে এবং পায়ের পাতায় টোকা দিতে হবে।সাধারণত ১ মিনিটের মধ্যেই নবজাতক কান্না এবং শ্বাস নেয়া শুরু করে। যদি শ্বাস না নেয় তবে তাদের মুখে মুখ দিয়ে শ্বাস দিতে হবে।মুখের ভিতরে শ্লেস্মা থাকলে পরিষ্কার করে দিতে হবে এবং অতি দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
৯। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খেতে দিতে হবে।
পরবর্তী পর্বে নবজাতক জন্মের পূর্বে যে সকল জিনিস প্রস্তুত রাখতে হবে সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
Author
-
এম.বি.বি.এস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ডিসিএইচ, এফসিপিএস-শিশু (শেষ পর্ব) পিজিপিএন-বোষ্টন ইউনিভার্সিটি (USA) নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ। লাকসাম জেনারেল হসপিটাল বাইপাস, লাকসাম, কুমিল্লা।
View all posts