অর্থ লিপি

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

সামিট ও ইউনিক গ্রুপের ২টি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হবার অপেক্ষায়

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

চলতি (২০২৪) বছরে গ্যাস সরবরাহ পেলে চালু হতে পারে সামিট গ্রুপের (Summit Meghnaghat II Power Plant) ৫৮৩ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি,এছারাও চালু হতে পারে ইউনিক ও রিলায়েন্স গ্রুপের ২ টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে গ্যাসভিত্তিক ১৮৮৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে সামিট গ্রুপ, ইউনিক গ্রুপ ও রিলায়েন্স গ্রুপ।গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রস্তুত হলেও এখন পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারেনি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তিনটি। গ্যাস সরবরাহ যে গ্রুপ আগে পাবে সেই গ্রুপের  বিদ্যুৎ কেন্দ্র আগে চালু হবে বলে জানা গিয়েছে।

গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেঘনাঘাটে গ্যাসভিত্তিক নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সামিট পাওয়ারের চেয়ার‌ম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান নিজেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

জানা গিয়েছে, বৈঠকে মেঘনাঘাটে সামিট পাওয়ারের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর (সিওডি) জন্য বিপিডিবির কেন্দ্রগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত গ্যাসের বাইরে অতিরিক্ত সরবরাহ চাওয়া হয়। যদিও জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসের নির্ধারিতের বাইরে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয়। কেবল বিপিডিবিকে সরবরাহ গ্যাসের মধ্যে রেশনিং করা সম্ভব হলে সামিটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে সরবরাহ করা যেতে পারে,এ সময় রিলায়েন্সের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির টেস্টিং ও কমিশনিংয়ের জন্য চলতি মাসের শেষ দিকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

জ্বালানি বিভাগ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর একজন কর্মকর্তা  জানান, বৈঠকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা, বিপিডিবি ও তিতাসের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্ন মতামত উঠে আসে। তবে এক পর্যায়ে নির্বাচনের পর ইউনিক গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে নিয়ে আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। আর সামিটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কবে নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কেউই। তবে রেশনিংয়ের ভিত্তিতে বিপিডিবি গ্যাস দিতে পারলে মেঘনাঘাটে সামিটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্যাস পাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

গ্যাস সংযোগের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সামিট পাওয়ারের একজন পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার কাছ থেকে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাসের সংস্থান না থাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে এখনই বাণিজ্যিক উৎপাদনে আনতে অনিচ্ছুক তারা। নতুন পাইপলাইন নির্মাণ শেষ হলে এসব কেন্দ্র চালু করার বিষয়ে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আগেই ছিল।

যদিও নতুন পাইপলাইন নির্মাণ কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য কারো কাছেই পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মেঘনাঘাটে গ্যাস সরবরাহের জন্য বর্তমানে নতুন একটি গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। এজন্য কুমিল্লার বাখরাবাদ থেকে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট হয়ে হরিপুর পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি পাইপলাইন নির্মাণে গৃহীত প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। ২০২১ সালে শুরু হয়ে চলতি বছরের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা। যদিও জিটিসিএলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি এখনো শূন্য।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সময়মতো বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে না পারলে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেঘনাঘাটে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স পাওয়ার নির্মাণ করেছে ৭১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ নির্মাণ করেছে ৫৮৩ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ইউনিক গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সক্ষমতা ৫৮৪ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ কেন্দ্র তিনটি ২০২৩ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যেই পুরোদমে চালু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এর পরও কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি বিপিডিবি ও পেট্রোবাংলা।

এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে হলে প্রতিদিন ৩২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। এর মধ্যে সামিট ও ইউনিকের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য দৈনিক গ্যাস দরকার ১৯২ মিলিয়ন ঘনফুট। রিলায়েন্সের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজন দৈনিক ১৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই।

পেট্রোবাংলার গ্যাস উৎপাদন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ২ হাজার ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর বিপিডিবির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। যদিও বরাদ্দকৃত গ্যাসের মধ্যে পেট্রোবাংলা এখন গ্যাস সরবরাহ দিতে পারছে ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

সামিট ও ইউনিকের বিদ্যুৎ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটির যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়েছে দুই মাস আগে। এজন্য প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গড়ে ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন ছিল। সেটির সরবরাহ তারা পেয়েছে। এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত হলে রিলায়াবিলিটি টেস্ট শুরু হবে। তারপর কেন্দ্রগুলো বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যেতে পারবে।

উল্লেখ্য তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ২টি  বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত,বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২টি চালু হলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি দুটির মুনাফা বারবে বহুলাংশে। 

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।