শেখ হাসিনা সরকার পতন হয়েছিল ৫ ই আগস্ট ,তার আগে আন্দোলন চলছিল,যে কারণে চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে রেমিট্যান্স আসা থমকে গেলেও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর রেমিট্যান্সে গতি বেড়েছে। আগস্টের প্রথম ২০ দিনে দেশে বৈধপথে ১.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, আগস্টের ২০ তারিখ পর্যন্ত দেশে আসা ১.৫৩ বিলিয়ন ডলার,যা আগের বছরের একই সময়ে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১.১২ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য গত ৪ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত এসেছে ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এসেছে ৬৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার। এছাড়া গত ২০ আগস্ট একদিনেই প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১০৯ মিলিয়ন ডলার।
ব্যাংকাররা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাস শেষে প্রবাসী আয় ২৫০ কোটি ডলার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয় আসার যে ধারা তাতে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৭ কোটি ডলারের বেশি দেশে আসছে। বর্তমান এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয় ২৩৫ কোটি ডলার ছাড়াবে। যদি সেটিও হয়, তাহলে চলতি বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় আসার রেকর্ড হবে আগস্টে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে গত জুনে, ২৫৫ কোটি ডলার। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল মে মাসে, ২২৫ কোটি ডলার। আর সর্বশেষ জুলাইয়ে এসেছিল ১৯১ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে সংঘাত– সংঘর্ষ, কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধের প্রেক্ষাপটে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যায়। ঐ সময় দেশে বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠানোর বিষয়ে ক্যাম্পেইন করেন অনেক প্রবাসী। যার প্রভাব পড়েছিল প্রবাসী আয়ে।
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর আবার দেশ গঠনে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। এর ফলে আবারও প্রবাসী আয় এখন বাড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন ব্যাংকাররা।
জানা গেছে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিভিন্ন দেশে ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন ,অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি জানিয়েছেন, তাঁরা ১ ডলার ও হুন্ডিতে পাঠাবেনা।সব ডলার ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাবেন।তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন আগামীতে দেশে রেমিট্যান্সের রেকর্ড হবে।