অর্থ লিপি

২৩ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার ৭ কার্তিক ১৪৩৩

গরুকে আদর করলেই কমবে ব্লাড প্রেশার! ফের গোমাতা-তত্ত্বে সরব বিজেপি নেতা দিলীপ

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

দিলীপ ঘোষ এবং ‘গোমাতা’ বিতর্ক— দুইয়ে যেন এক চিরন্তন সংযোগ। এর আগে গরুর দুধে সোনা খোঁজা থেকে শুরু করে গো–মূত্রের উপকারিতা নিয়ে মন্তব্য করেবহুবার নেটপাড়ায় ঝড় তুলেছেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতাদিলীপ ঘোষ।

এবার তাঁর মুখে শোনা গেল এক অভিনব ‘মেডিকেল থিওরি’। তাঁর দাবি, গরুর গায়ে হাত বোলালে বা আদর করলেই নাকি কমে যায় মানুষের উচ্চ রক্তচাপ।

সম্প্রতি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দিলীপ ঘোষ। সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং গরুর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি এইমন্তব্য করেন।

বিজেপি নেতার দাবি, ভারতীয় গরুর কুঁজে একটি বিশেষ নাড়ি থাকে, যার ওপর সূর্যলোক পড়লে বিশেষ শক্তির সঞ্চার হয়।

দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমাদের সনাতন সংস্কৃতিতে গরুকে মা বলা এমনি এমনি হয় না। আপনি যদি প্রতিদিন নিয়ম করে গরুর গায়ে হাত বোলান, তাকে আদর করেন, তবে আপনার মানসিক চাপ ও ব্লাড প্রেশার নিমেষেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে।‘

ভাইরাল নেটপাড়া, শুরু ট্রোলিং

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই হাসির রোল উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে ‘মেডিক্যাল সায়েন্সের নতুন আবিষ্কার’ বলেকটাক্ষ করতে শুরু করেছেন।

  • ট্রোলিং: অনেকেই মিম শেয়ার করে লিখছেন, ‘তাহলে কি এবার থেকে প্রেসারেরওষুধের দোকান বন্ধ করে গোয়ালঘরে লাইন দিতে হবে?’
  • সমালোচনা: বিরোধীরাও সুযোগ হাতছাড়া করেননি। তাঁদের বক্তব্য, গুরুত্বহীনএবং বিজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলে মূল সমস্যা (যেমন কর্মসংস্থান বা উন্নয়ন) থেকে মানুষের নজর ঘোরানোই দিলীপ বাবুর অভ্যাস।

চিকিৎসকেরা কী বলছেন

দিলীপ ঘোষের এই ‘গো–তত্ত্ব’ নিয়ে চিকিৎসকদের মতামত অবশ্য মিশ্র। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, যেকোনো পোষ্য প্রাণীর (যেমন কুকুর, বিড়াল বা গরু) সাথে সময় কাটালে বা তাকে আদর করলে মানুষের শরীরে ‘অক্সিটোসিন‘ ও‘এন্ডোরফিন‘ নামক ফিল–গুড হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। এতে সাময়িকভাবে মানসিক চাপ (Stress) কমতে পারে, যা পরোক্ষভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

তবে তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, এটি কোনো ভাবেই উচ্চ রক্তচাপের স্থায়ী চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প নয়। গুরুতর হাইপারটেনশনের রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই একমাত্র পথ।

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে পক্ষ বিপক্ষে আলাপ যাই চলুক না কেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে তিনি আবার ‘লাইমলাইট‘ কেড়ে নিয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য!

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।