একটি সুসংহত পুঁজিবাজার বিনির্মানের লক্ষ্যে মৌলভিত্তি সম্পন্ন সিকিউরিটিজের এর সরবরাহ বৃদ্ধির নিমিত্ত সরকার মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার অফলোড/তালিকাভুক্তকরণ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবী।
বিশেষ করে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের অধীনে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার উপযোগী কোম্পানিসমূহকে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় কর্তৃক তালিকাভুক্তির বিষয়ে সার্বিক কর্মপন্থা তৈরি ও দ্রুত নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। সরকার মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার অফলোড/তালিকাভুক্তিকরণ করা হলে বাৎসরিক বাজেটে সরকারের ভর্তুকি খাতের বরাদ্দ বহুলাংশে কমিয়ে, বাজেট ঘাটতি যেমন কমানো যাবে তেমন বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা কমানো সম্ভব হবে।
সরকার মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার অফলোড/তালিকাভুক্তিকরণে সরকার উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নির্দেশনা দিলেও তা কার্যকর হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছেনা। সরকার মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার অফলোড/তালিকাভুক্তিকরণে সরকারকে প্রতিনিয়ত যে সকল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে
➢ কোম্পানিসমূহের কর্তৃপক্ষের অনভিজ্ঞতা ও উদাসীনতা।
➢ কোম্পানিসমূহের পেইড আপ ক্যাপিটাল ও আর্থিক কাঠামোগত সমস্যা।
➢ পুঁজিবাজার সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ও নেতিবাচক ধারণা।
➢ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব।
➢ অপারেটিং লস এর ক্ষেত্রে শেয়ার অফলোডে বাধা।
➢ অনেক কোম্পানির প্রফিট মার্জিন সরকারের মূল্য নির্ধারণ নীতির উপর নির্ভরশীল।
➢ মুনাফার ক্ষেত্রে সরকারী নীতি নির্ভরতা।
➢ সরকারী হোল্ডিং কোম্পানির সিদ্ধান্ত প্রদানে বিলম্ব।
➢ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে উর্দ্ধতন ম্যানেজমেন্টের ঘন ঘন পরিবর্তন।
➢ পরিচালনাধীন প্রকল্পসমূহের জন্য গৃহীত ঋন বা বিনিয়োগের শর্তসমূহ।
➢ নতুন প্রকল্পে বিপুল অংকের অর্থের চাহিদা হয় যা প্রায় ১৫০০-২০০০ কোটি টাকার মতো। বর্তমান পুঁজিবাজার এত বৃহৎ পরিমাণ অর্থের যোগান দেয়ার মতো শক্তিশালী নয়।
➢ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন কোম্পানিসমূহের নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা অনেকটা মজুদ এর উপর নির্ভরশীল।
➢ পুঁজিবাজারে শেয়ারের সঠিক মূল্য পেতে হলে সম্পদের পুনঃমূল্যায়ন করতে হলেও অধিকাংশ সরকার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের এটা করা নাই।
➢ সরকার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এর অনেক বড় অংশ সরকারের সাবসিডি’র উপর নির্ভরশীল।
➢ নীতি সুবিধার অভাব।
➢ পাবলিক ইস্যু রুলসের কিছু ধারার প্রতিবন্ধকতা যা শিথিল করা প্রয়োজন।
সরকার মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহকে গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় গাইড প্রদান করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উপোযোগী করে তোলার উদ্যোগ নিলে পুঁজিবাজারের আকার যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি সরকারের উপর আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে।
এছাড়াও কোম্পানিসমূহের জবাবদিহিতা বাড়বে এবং কোম্পানিসমূহ সরকার নির্দেশিত বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স পরিপালনে অভ্যস্থ হয়ে উঠবে বলে আমরা আশা করি। তাই প্রয়োজনে পাবলিক ইস্যু রুলসের কিছু ধারার পরিবর্তন বা শিথিল করে সরকার মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহকে দ্রুত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।