দেশের শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে সূচকে নিম্নমুখিতা থাকলেও লেনদেন বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ০.২৭ শতাংশ। পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৯.৭৯ শতাংশ। ডিএসইর সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, গত মাসের শেষ সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ২১৯ পয়েন্ট। এছাড়া গত সপ্তাহে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, গত মাসের শেষ সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৯১৫ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে সামান্য বেড়ে ১ হাজার ১৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, গত মাসের শেষ সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ১৬৮ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে মোট ২ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগে গত মাসের শেষ সপ্তাহের চার কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ দখলে নিয়েছে প্রকৌশল খাত। ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। এছাড়া ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ব্যাংক খাত। আর বস্ত্র খাতের দখলে ছিল ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে নয়টি বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সিমেন্ট খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এরপর সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। এছাড়া জীবন বীমা খাতে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সিরামিক খাতে ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং করপোরেট বন্ড খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৩ দশমিক ৩২, ব্যাংক খাতে ১ দশমিক ৭৫, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ১ দশমিক ৭২ ও চামড়া খাতে ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
দেশের আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ২২ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৫০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, গত মাসের শেষ সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৫৪১ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে সামান্য কমে ৮ হাজার ৮৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, গত মাসের শেষ সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৮৪২ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, গত মাসের শেষ সপ্তাহে যেখানে লেনদেন ছিল ৫০ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩১টির, কমেছে ১৬৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২২টির বাজারদর।