শেয়ারবাজার শুধুই শেয়ার কেনাবেচার জায়গা নয়, শেয়ারবাজারকে কেনাবেচার জায়গা হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক ভূমিকা অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়। একটি কার্যকর শেয়ারবাজার দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে শিল্পায়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ।
তবে এ ধরনের ভূমিকা কার্যকর করতে শুধু বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরানো যথেষ্ট নয়। ভালো মানের কোম্পানি বাজারে আনা, স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়মের কার্যকর প্রতিকারও প্রয়োজন।
বিনিয়োগকারীকে শুধু শেয়ারবাজারে ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বিনিয়োগের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত থাকার বিষয়ে আস্থা রাখতে পারেন।
একই সঙ্গে ভালো উদ্যোক্তাদের জন্যও শেয়ারবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা প্রয়োজন। শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ শুধু অর্থের উৎস নয়, বরং এর সঙ্গে ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও করপোরেট সুশাসনের বিষয়ও যুক্ত থাকে।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই শুধু সূচক বা দৈনিক লেনদেনের পরিমাণের দিকে নজর না দিয়ে বাজারে মানসম্পন্ন কোম্পানির অংশগ্রহণ, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং টেকসই মূলধন তৈরির দিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, উদ্যোক্তা, বাজারের মধ্যস্থতাকারী এবং বিনিয়োগকারী, সবারই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত একটি শক্তিশালী শেয়ারবাজারের উদ্দেশ্য শুধু সূচক বৃদ্ধি বা লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানো নয়। বরং দেশের মানুষের সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করাই হওয়া উচিত এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
অর্থাৎ, শেয়ারবাজার শুধু বিনিয়োগের ক্ষেত্র নয়; সঠিক কাঠামো ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে এটি দেশের শিল্পায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
Author
-
মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার দেশের পুঁজিবাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত। তিনি উপ-মহাব্যবস্থাপক, জাহান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের। পোর্টফোলিও পরিচালনায় সুদক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি ২০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সহিত পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত আছেন।
View all posts