অর্থ লিপি

১৪ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

দুর্বল ব্যাংকে পুরোনো শেয়ারহোল্ডারদের ফেরার সুযোগ, সংসদে পাস ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ অবশেষে বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের আবারও মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিলের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, অন্য কোনো আইন বা বিধানের তোয়াক্কা না করেই ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ারধারীরা, অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে উপযুক্ত বিবেচিত ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় ধারণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজোল্যুশন কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। তবে আবেদন করতে হলে নির্দিষ্ট অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে।

আইন অনুযায়ী, আবেদনকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংক পরিচালনার ইচ্ছা প্রকাশ, নতুন মূলধন জোগান দিয়ে বিদ্যমান ঘাটতি পূরণ, সরকারি বা আধা-সরকারি উৎস থেকে নেওয়া সব ঋণ, সুদ, গ্যারান্টি ও আর্থিক সহায়তা ফেরত দেওয়া। পাশাপাশি একীভূত হওয়ার আগে আমানতকারী, দেশি-বিদেশি পাওনাদার ও তৃতীয় পক্ষের সব বৈধ দায় নিষ্পত্তি করতে হবে। সরকারের কর ও অন্যান্য আর্থিক দায়ও সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে।

আইনের উপধারা (৩) অনুযায়ী, আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের তিন মাসের মধ্যে শেয়ার ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আগে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অর্থের ৭.৫ শতাংশ পে-অর্ডার আকারে জমা দিতে হবে।

এছাড়া উপধারা (৪)-এ বলা হয়েছে, বাকি ৯২.৫ শতাংশ অর্থ শেয়ার হস্তান্তরের দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।

নতুন এই আইনের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলায় একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। বিলের মূল কাঠামোয় বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোল্যুশন ক্ষমতা, প্রশাসক নিয়োগ, মূলধন বৃদ্ধি, তৃতীয় পক্ষের কাছে সম্পদ ও দায় হস্তান্তর, ব্রিজ ব্যাংক গঠন, সরকারি সহায়তা, রেজোল্যুশন তহবিল এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।