দীর্ঘ সময় ধরে টানা মন্দাভাব, আস্থাহীনতা এবং কম লেনদেনের চাপ সামলে দেশের শেয়ারবাজারে আবারও ইতিবাচক গতি দেখা যাচ্ছে।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের উত্থান, লেনদেন বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন স্টকের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সত্যিই শেয়ারবাজারে সুদিনের পূর্বাভাস মিলছে?
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুধু বড় মূলধনী কোম্পানি নয়, মাঝারি ও ছোট মূলধনের অনেক শেয়ারেও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। এটি বাজারে তারল্য ও অংশগ্রহণ বাড়ার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত কিছু শেয়ারে কেন্দ্রিভূত লেনদেনের যে প্রবণতা ছিল, সেখান থেকে বাজার ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার আভাস দিচ্ছে।
তবে বাস্তবতা হলো, সাময়িক উত্থানকে স্থায়ী সুদিন মনে করার সুযোগ এখনও তৈরি হয়নি। কারণ বাজারের মূল সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরপতন, দুর্বল কোম্পানির অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সংস্কৃতির অভাব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
এছাড়া বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কারসাজি নিয়ন্ত্রণ, মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিকে উৎসাহ দেওয়া এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারলেই বাজারে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে।
শেয়ারবাজার মূলত অর্থনীতির প্রতিচ্ছবি। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক ও নীতিগত পরিবেশ এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স ভালো থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব বাজারেও পড়ে। তাই বর্তমান ইতিবাচক প্রবণতাকে ধরে রাখতে হলে শুধু সূচকের উত্থান নয়, প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরির উদ্যোগ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাজারে ইতিবাচক গতি অবশ্যই আশার বার্তা দিচ্ছে। তবে প্রকৃত সুদিন তখনই আসবে, যখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের আস্থা ফিরে পাবেন।