গতকাল রবিবার (৮ই অক্টোবর) ঢাকার এফডিসিতে অর্থনৈতিক সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ আয়বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট শিরোনামে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন।
প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি ও তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, রিজার্ভ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, তা অন্যায়। রিজার্ভ নিয়ে আমরা চিন্তিত, কিন্তু শঙ্কিত নই। তবে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের অর্থনীতি এখনো সবল আছে। অর্থনৈতিক ভাবে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে আমরা এখন ভারতের সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছি।’
মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘ঋণখেলাপিরা একবার নয়, দুবার নয়, বারবার কেন পার পেয়ে যাবেন? কেন ঋণ নিয়ে ঋণ পরিশোধ করবেন না। এক হাজার টাকার কৃষিঋণ ফেরত দিতে না পারলে কেন কিষান–কিষানিদের জেলে যেতে হয়। অথচ ১০ হাজার, ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা সব দলের সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ডানে–বাঁয়ে বসে বিদেশ ভ্রমণ করেন। এটা আমার হিসাবে মেলে না। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সমঝোতা করা উচিত। রাজনৈতিক বিরোধের মীমাংসা না করে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিলে আমাদের ভবিষ্যৎ খারাপ হবে।
সাবেক এই গভর্নর আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদে দুই–তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যই ব্যবসায়ী, যাঁরা নিজের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করেন। তাই রাজনীতিবিদদের আরও শক্তিশালী করেদেশের স্বার্থে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। আইএমএফের ঋণ নিয়ে আমরা যদিআর্থিক খাতের সংস্কার করতে না পারি, তাহলে সে ঋণ নিয়ে লাভ কী? দেশের আড়াই কোটি লোকের মাথাপিছু আয় ৫ হাজার ডলার। অথচ কর দিচ্ছেন মাত্র ২৮ লাখ মানুষ। বাকিদের করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘গত ৫২ বছরে আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকঅগ্রসর অবিশ্বাস্য হলেও আমাদের অনেক সমস্যা আছে। কিছু চাটার দলও আছে। যেকারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কর দেওয়ার প্রবণতা কম। প্রভাবশালীদেরই কর ফাঁকির পরিমাণ অনেক বেশি। কর ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের অভাবে প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে বৈদেশিক সাহায্য নির্ভরতা, আর্থিক খাতের অনিয়ম, প্রবাসী আয়ে ধীর গতি, মেগা প্রকল্পে অনিয়ম–দুর্ণীতি ও অর্থ পাচারের কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই দুর্নীতি অনিয়ম প্রতিরোধ করে অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুরক্ষার কৌশল অবলম্বন করা উচিৎ।