অর্থ লিপি

১৮ মার্চ ২০২৬ বুধবার ৪ চৈত্র ১৪৩২

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ দ্রুত সম্পন্ন করার বিকল্প নেই, শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা কি হবে!

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শরীয়াহ-ভিত্তিক দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর একীভূতকরণ দ্রুত সম্পন্ন করার বিকল্প নেই বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

গত সোমবার (১৬ মার্চ) গভর্নর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

তবে একীভূতকরণের এই দ্রুত প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোর সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের অস্তিত্ব বা মূল্যমান রক্ষা না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অন্যায় ও অমানবিক।

একীভূতকরণে ফেরার সুযোগ নেই

বৈঠকে পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক ও তাদের সহযোগীদের উপস্থিতিতে গভর্নর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, একীভূতকরণ কার্যক্রম থেকে পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে এই নতুন ব্যাংকে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন জোগান দিয়েছে এবং আমানত বিমা তহবিল থেকে গ্রাহকদের ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। তাই আইটি সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হবে।’

শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার দাবি

একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি-র হাজার হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারী যুক্ত রয়েছেন। বাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, ব্যাংকগুলোর আইটি এবং ডেটা একীভূত করার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ‘শূন্য’ ঘোষণা করা বা তাদের স্বার্থ উপেক্ষা করা বাজার ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই সংস্কারের এই পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভাবার দাবি উঠেছে।

আইটি ইন্টিগ্রেশনে বিলম্ব ও ঋণ আদায়

বৈঠকে আইটি সিস্টেম একীভূত করতে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চান গভর্নর। কর্মকর্তারা জানান, পাঁচটি ভিন্ন ব্যাংকের বিশাল ডেটা একত্রিত করতে সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এছাড়া গভর্নর ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেসব কারখানা ঋণের বিপরীতে সচল রয়েছে কিন্তু বর্তমানে বন্ধ, সেগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতেও প্রশাসকদের বলা হয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের লক্ষে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই ব্যাংকগুলোর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিগগিরই ব্যাংকটির জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।