অর্থ লিপি

১ মে ২০২৬ শুক্রবার ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের প্রথম ধাপ বিও একাউন্ট: কী লাগে, কত খরচ, কীভাবে খুলবেন—সব একসাথে জানুন

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে হলে প্রথম ও অপরিহার্য ধাপ হলো বিও (Beneficiary Owners) একাউন্ট খোলা। দেশে বর্তমানে দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) কিংবা সেকেন্ডারি মার্কেট—যেকোনো ক্ষেত্রেই শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বিও একাউন্ট বাধ্যতামূলক।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যেমন অর্থ লেনদেনের ভিত্তি, তেমনি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ভিত্তি হলো বিও একাউন্ট। বিও একাউন্ট ছাড়া কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় বা আইপিওতে আবেদন করতে পারেন না।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০০টির মতো ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে বিও একাউন্ট খোলা যায়। ব্যাংক হিসাব খোলার মতোই বিনিয়োগকারীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে পারেন। একসময় এসব প্রতিষ্ঠান রাজধানীর মতিঝিল কেন্দ্রীভূত থাকলেও এখন তা ঢাকার বাইরে বিভাগীয়, জেলা এমনকি অনেক থানা পর্যায়েও বিস্তৃত হয়েছে।

প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন অনলাইনের মাধ্যমেও বিও একাউন্ট খোলা সম্ভব। এতে দেশের বাইরে থেকেও বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে যুক্ত হতে পারছেন। যদিও প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকের আবেদন ফরম আলাদা, তবে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রায় একই ধরনের।

বিও একাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বিও একাউন্ট খুলতে সাধারণত নিম্নোক্ত নথিপত্র প্রয়োজন হয়—

* জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
* ব্যাংক হিসাব নম্বর ও ব্যাংক চেকের কপি
* একাউন্টধারীর ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
* নমিনির ১ কপি ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
* টিআইএন (ঐচ্ছিক, তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে)

বিও একাউন্ট অন্য হাউজে লিংক একাউন্টের মাধ্যমে স্থানান্তর করার নিয়ম ও খরচ

খরচ ও বিনিয়োগের নিয়ম

বিও একাউন্ট খোলার খরচ সাধারণত ১,০০০ টাকার মধ্যে হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান এটি বিনামূল্যেও প্রদান করে থাকে। তবে একাউন্ট চালু রাখতে প্রতি বছর ১৫০ টাকা রক্ষণাবেক্ষণ ফি দিতে হয়।

লেনদেন কমিশন ব্রোকারেজ হাউসভেদে ভিন্ন হয়। সাধারণভাবে প্রতি ১ লাখ টাকার লেনদেনে গড়ে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন ধার্য করা হয়। বিনিয়োগের পরিমাণ বেশি হলে কমিশন হার কিছুটা কমেও আসতে পারে।

আইপিওতে আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের লট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ বিও একাউন্টে জমা রাখতে হয়। এছাড়া সাধারণভাবে আইপিওতে অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন হয়।

সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী তার ইচ্ছামতো শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন, তবে সেই অনুযায়ী অর্থ একাউন্টে থাকতে হবে।

বাংলাদেশে আইন অনুযায়ী, একটি ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংক এক দিনে একজন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৮.৭৫ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করতে পারে। এর বেশি বিনিয়োগ করতে চাইলে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে লেনদেন করতে হয়।

বিও একাউন্ট খোলার সময় সঠিক মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিটি লেনদেনের তথ্য এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিনিয়োগকারীর কাছে পৌঁছে যায়। এতে বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

Author

  • মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার দেশের পুঁজিবাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত। তিনি উপ-মহাব্যবস্থাপক, জাহান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের। পোর্টফোলিও পরিচালনায় সুদক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি ২০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সহিত পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত আছেন।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।