দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের বড় উত্থান ঘটলেও সূচকের পতনে দিন শেষ হয়েছে। লেনদেনের শুরুতে ইতিবাচক গতি ও মধ্যভাগে ইন্স্যুরেন্স খাতের চমক থাকলেও শেষ দিকে সর্বাত্মক বিক্রি চাপে নেতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ হয়।
তবে বাজারে লেনদেনের এই ইতিবাচক গতিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মার্জিন লোন সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক অস্পষ্টতা ও ইস্যুগুলো সমাধান হলেই পুঁজিবাজার আরও চাঙা ও টেকসই রূপ নেবে।
সূচনাতেই গতি, মধ্যভাগে ইন্স্যুরেন্সের দাপট
ডিএসইর আজকের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিনের শুরুতেই বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাজারে ইতিবাচক হাওয়া বইতে শুরু করে। লেনদেনের প্রথম ভাগেই প্রধান সূচকগুলোতে পয়েন্ট যোগ হতে থাকে।
দুপুরের দিকে বাজারে সবচেয়ে বেশি গতি এনে দেয় বীমা (ইন্স্যুরেন্স) খাত। এ খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দাম হু-হু করে বাড়তে থাকলে সার্বিক লেনদেনের পরিমাণেও বড় ধরনের লাফ দেখা যায়। টপ গেইনারের তালিকায় আধিপত্য বিস্তার করে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স (৯.৯৬%), প্রাইম ইন্স্যুরেন্স (৭.৩৪%), কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স (৬.৯৫%), নিটোল ইন্স্যুরেন্স (৬.৮৮%) ও প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের (৫.৯৫%) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
শেষ সময়ের বিক্রি চাপ ও দরপতন
ইন্স্যুরেন্স খাতের ভরপুরে ভর করে দুপুর পর্যন্ত বাজার চাঙ্গা থাকলেও শেষ দিকে চিত্র বদলে যায়। মুনাফা তুলে নেওয়ার (প্রফিট বুকিং) প্রবণতা বাড়লে বাজারে হঠাৎ করেই বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
এর প্রভাবে বেক্সিমকো (-৭.৪৬%), ফরচুন সুজ (-৬.৮০%), রেনউইক যজ্ঞেশ্বর (-৬.৬০%) এবং এনআরবি ব্যাংকের (-৫.৮০%) মতো বড় ও আলোচিত শেয়ারগুলোর বড় ধরনের দরপতন ঘটে। ফলে লেনদেনের প্রথম ও মধ্যভাগের অর্জিত পয়েন্ট হারিয়ে সূচক লাল বা নেতিবাচক ধারায় নেমে দিন শেষ করে।
টাকার অঙ্কে বিশাল লেনদেন
সূচকে পতন হলেও আজকের বাজারে ক্যাশ ফ্লো বা তারল্যপ্রবাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনশেষে ডিএসইতে ১২,৬০৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ ও শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা বাজারের শক্তিশালী তারল্যের উপস্থিতি নির্দেশ করে। মোট ৪৯ কোটি ১৮ লাখের বেশি শেয়ার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৯১৭ টি ট্রেডের মাধ্যমে হাতবদল হয়।
ডিএসইএক্স (DSEX) সূচক ৫,৯০০.২৬ পয়েন্টে, শরীয়াহ সূচক (DSES) ১,২০১.৪৫ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপ সূচক (DS30) ২,২১৯.৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজ টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে ছিল আরগন ডেনিম (৩৪.৭৮ কোটি টাকা), ডমিনেজ স্টিল (৩৩.৮৬ কোটি টাকা), বেক্সিমকো (২৯.২১ কোটি টাকা) ও সাইহাম টেক্সটাইল (২৪.৬৭ কোটি টাকা)।
মার্জিন লোন ইস্যু ও বাজারের ভবিষ্যৎ
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, লেনদেনের বর্তমান গতি প্রমাণ করে বিনিয়োগকারীদের বাজারে আগ্রহ ও অর্থ দুটোই রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ নীতিমালার কিছু বিষয় নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক দ্বিধা রয়েছে।
মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর যৌক্তিক ও চূড়ান্ত সমাধান এলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আরও ব্যাপকভাবে বাড়বে। ফলে সাময়িক এই দরপতন কেটে গিয়ে পুঁজিবাজার দ্রুতই দীর্ঘমেয়াদি চাঙা ধারায় ফিরবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।