দেশের পুঁজিবাজারের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্টকর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এখন নিজেই অস্তিত্ব সংকটে। দীর্ঘ সময় ধরেবাজারের ‘ত্রাতা’ হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি রেকর্ড পরিমাণ লোকসানের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে।
আজ মঙ্গলবার(২৮ এপ্রিল) প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আইসিবির এই নজিরবিহীন বিপর্যয়েরচিত্র।আইসিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে(জানুয়ারি–মার্চ’২৬) সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা২০ পয়সা। গত বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ১ টাকা ৮৬ পয়সা।অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে লোকসান বেড়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ।
তিন প্রান্তিক বা নয় মাস (জুলাই‘২৫–মার্চ‘২৬) মিলিয়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিলোকসান দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৭৯ পয়সায়, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৩ টাকা২২ পয়সা।
তলানিতে সম্পদ মূল্য:
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি নিটসম্পদ মূল্য (NAVPS)। গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে আইসিবির এনএভিপিএসদাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৬৮ পয়সায়। দায়দেনার তুলনায় নিট সম্পদের এই করুণ দশাপ্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বাজারের জন্য শঙ্কার বার্তা:
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় ভরসার জায়গা আইসিবি নিজেই যখন লোকসানে জর্জরিত, তখন তারা বাজারকে কীভাবে সাপোর্ট দেবে—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের ঋণের বোঝা এবং পোর্টফোলিওতে থাকাশেয়ারের দরপতন আইসিবিকে এই খাদের কিনারে নিয়ে এসেছে।
নতুন ‘ত্রাতা’ সময়ের দাবি:
পুঁজিবাজারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে একটি মাত্র দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বাজারের পতন ঠেকানো এবং স্থিতিশীলতা ফেরাতে আইসিবির বিকল্প হিসেবে নতুন কোনো শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম বা রাষ্ট্রায়ত্ত বড় ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর ‘সাপোর্ট ফান্ড’ গঠন করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।