দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং চার কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।
সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা। পদত্যাগ করা চার কমিশনার হলেন মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফউদ্দিন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজই নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি কমিশনার হিসেবে একজন সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ, আইনজীবী এবং ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
পদত্যাগের পর যা বললেন রাশেদ মাকসুদ
পদত্যাগের পর বিএসইসির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় খন্দকার রাশেদ মাকসুদ তাঁর দায়িত্বকালীন বিভিন্ন উদ্যোগ ও সংস্কার কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রায় ২১ মাস আগে একটি অস্থির সময়ে তিনি কমিশনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাজারের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
তাঁর দাবি, এই সময়ের মধ্যে বিএসইসি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এছাড়া করপোরেট গভর্ন্যান্স, নিরীক্ষা এবং করপোরেট পুনর্গঠন-সংক্রান্ত তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএসইসি আইন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড-সংক্রান্ত দুটি আইনের খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে।
রাশেদ মাকসুদ আরও বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইন ও বিধিবিধান প্রয়োগে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বাজার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও ইস্যুকারী কোম্পানিগুলোকে নিয়মের মধ্যে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন নতুন নেতৃত্বের দিকে
চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের একযোগে পদত্যাগের ঘটনায় দেশের পুঁজিবাজারে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন অপেক্ষা করছেন নতুন নেতৃত্বের জন্য।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন কমিশন গঠন করা হলে পুঁজিবাজারে আস্থা ও স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হতে পারে।