বাংলাদেশের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিনিয়োগ উন্নয়ন ও শিল্পায়ন-সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (PPPA) একীভূত হয়ে নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করেছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’।
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট গেজেট জারির মাধ্যমে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি কার্যকর হওয়ার পর নতুন এই কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। নতুন কাঠামোর অধীনে বিনিয়োগ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (PPP) কার্যক্রম একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আসছে।
এর আগে ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ পাস হয়। আইনের মাধ্যমে বিদ্যমান তিন প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে দেশের একক বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হিসেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়। নতুন কর্তৃপক্ষটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।
এক ছাতার নিচে বিনিয়োগসেবা
নতুন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করা। বিনিয়োগ অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া, প্রণোদনা, শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবাগুলোকে আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা এক জায়গায় আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আলাদাভাবে ঘুরতে হওয়ার প্রবণতা কমানো এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময় ও জটিলতা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামোর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করা হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
বিনিয়োগসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু প্রতিষ্ঠান একীভূত করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। নতুন কর্তৃপক্ষের কার্যকর ওয়ান-স্টপ সেবা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, নীতির ধারাবাহিকতা এবং বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
পূর্ণ কাঠামো গঠনে আরও সময়
নতুন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু হলেও এর পূর্ণ সাংগঠনিক কাঠামো এখনও ধাপে ধাপে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে।
ফলে ‘Invest Bangladesh’ শুধু তিনটি প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করার উদ্যোগ নয়, বরং বাংলাদেশের বিনিয়োগসেবা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে এই নতুন কাঠামো কতটা দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব সেবা দিতে পারে, তার ওপর।