পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এপেক্স ফুডস লিমিটেড (APEXFOODS) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ার হোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
অর্থাৎ প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ২ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন যোগ্য শেয়ারহোল্ডাররা।
কোম্পানিটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তবে এসব ইতিবাচক আর্থিক সূচকের পরও লভ্যাংশের হার ২০ শতাংশেই সীমাবদ্ধ রেখেছে কোম্পানিটি।
উল্লেখ্য, কোম্পানিটি গত ১০ বছর যাবত ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনা শেষে এ লভ্যাংশের সুপারিশ করা হয়।
দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে EPS
কোম্পানির প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এপেক্স ফুডসের শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) হয়েছে ১৪ টাকা ২১ পয়সা। আগের অর্থবছরে EPS ছিল ৬ টাকা ৪১ পয়সা।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে EPS বেড়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মূলত রাজস্ব বৃদ্ধির কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে EPS-এ এই উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
ঋণাত্মক NOCFPS থেকে ৬৪.৮৯ টাকা
শুধু EPS নয়, পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহেও বড় পরিবর্তন এসেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (NOCFPS) হয়েছে ৬৪ টাকা ৮৯ পয়সা। অথচ আগের অর্থবছরে NOCFPS ছিল ঋণাত্মক ৫৯ টাকা ১৬ পয়সা।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরিচালন নগদ প্রবাহের অবস্থানে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে।
কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব থেকে আদায়ের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় NOCFPS-এ এই পরিবর্তন এসেছে। তবে বিভিন্ন বিষয় ও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নগদ প্রবাহের পরিস্থিতিও পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
NAV বেড়েছে ১১৮.৯৯ থেকে ২৪১.৯৭ টাকা
এপেক্স ফুডসের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা NAV-তেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।
৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির NAV দাঁড়িয়েছে ২৪১ টাকা ৯৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে পুনঃস্থাপিত NAV ছিল ১১৮ টাকা ৯৯ পয়সা।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মূলত বিনিয়োগ করা শেয়ারের বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে NAV বেড়েছে।
মুনাফা ও নগদ প্রবাহ বাড়লেও লভ্যাংশ ২০%
এপেক্স ফুডসের সর্বশেষ আর্থিক ফলাফলে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে নজরে এসেছে। EPS ৬.৪১ টাকা থেকে বেড়ে ১৪.২১ টাকা, NOCFPS ঋণাত্মক ৫৯.১৬ টাকা থেকে বেড়ে ৬৪.৮৯ টাকা এবং NAV ১১৮.৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২৪১.৯৭ টাকা হয়েছে।
এর বিপরীতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।
এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, মুনাফা ও পরিচালন নগদ প্রবাহে এতটা উন্নতির পরও লভ্যাংশের হার ২০ শতাংশের গণ্ডি থেকে বের হতে পারল না কেন?
অবশ্য লভ্যাংশ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোম্পানির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ, নগদ সংরক্ষণ, কার্যকরী মূলধনের প্রয়োজনীয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়ে থাকে। তাই শুধু EPS বা NOCFPS বৃদ্ধির ভিত্তিতে লভ্যাংশের হার মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়।
তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে কোম্পানির আয়, নগদ প্রবাহ এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশের মধ্যে সামঞ্জস্য কতটা রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয়।
রেকর্ড ডেট ২৭ অক্টোবর
ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট ২৭ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) আগামী ২৬ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে।
পর্যবেক্ষণ
কোম্পানির মুনাফা ও পরিচালন নগদ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলে তার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে, এমন প্রত্যাশা থাকা স্বাভাবিক।
তবে লভ্যাংশের হার নির্ধারণ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত। তাই এপেক্স ফুডসের ক্ষেত্রে আয় ও নগদ প্রবাহের উল্লেখযোগ্য উন্নতির বিপরীতে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আলোচনায় আসা স্বাভাবিক।
চূড়ান্তভাবে কোম্পানির আর্থিক ফলাফল, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা, নগদ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং ধারাবাহিক লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা বিবেচনা করেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা উচিত।