মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ইরান– ইসজারাইল,যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে (ডিএসই)-তে ব্যাপক বিক্রির চাপে প্রধান সূচকগুলোতে বড় ধরনের পতন হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিনের লেনদেন শেষে প্রধান সূচক DSEX কমে দাঁড়িয়েছে ৫১১২ পয়েন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১০৭ পয়েন্ট বা ২.০৫ শতাংশ কম। শরিয়াহভিত্তিক সূচক DSES কমেছে ১৮ পয়েন্ট এবং DS30 সূচক হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৩৫ পয়েন্ট।
আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনজুড়েই সূচক নিম্নমুখী ছিল। লেনদেনের শুরুতেই বিক্রির চাপ তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। মাঝে স্বল্প সময়ের জন্য কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি।
আজ লেনদেনের পরিমাণও ছিল তুলনামূলক কম। দিন শেষে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫১২ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ১১৪ কম। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৬২৬ কোটি টাকার। আজ মোট ট্রেড হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি।
আজ বাজারে দরপতনের চিত্র ছিল ব্যাপক দৃশ্যমান। লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। আজ দর বেড়েছে মাত্র ২৫ টি কোম্পানির, বিপরীতে কমেছে ৩৫৪ টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১১টি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরান–আমেরিকা উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করায় এর প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে শেয়ার বিক্রিতে ঝুঁকছেন, ফলে বাজারে চাপ বাড়ছে এবং নতুন বিনিয়োগের গতি কমে যাচ্ছে।
তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার অনেকটাই বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নির্ভর হয়ে পড়েছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।