নানান জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শেয়ারবাজারে ৩৫টি কোম্পানি ছাড়া বাকি সব শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বা ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি ) ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার আদেশ জারি করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আদেশে বলা হয়েছে, সরকারের নির্দেশনা মেনে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূলত যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে এবং যাদের শেয়ারের দামের উত্থান–পতনে সূচকের ওপর প্রভাব ফেলে, তেমন ৩৫টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বহাল রাখা হয়েছে। পরে এসব কোম্পানির ওপর থেকেও ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।

যে ৩৫টি কোম্পানির ওপর ফ্লোর প্রাইস বহাল রাখা হয়েছে সেগুলো হলো আনোয়ার গ্যালভ্যানাইজিং, বারাকা পাওয়ার, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বেক্সিমকো লিমিটেড, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল, বিএসআরএম লিমিটেড, বিএসআরএম স্টিল, কনফিডেন্সসিমেন্ট, ডিবিএইচ, ডরিন পাওয়ার, এনভয় টেক্সটাইল, গ্রামীণফোন, এইচআর টেক্সটাইল, আইডিএলসি, ইনডেক্স অ্যাগ্রো, ইসলামী ব্যাংক, কেডিএস এক্সেসরিজ, খুলনা পাওয়ার, কাট্টলি টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ন্যাশনাল হাউজিং অ্যান্ডফাইন্যান্স, ন্যাশনাল পলিমার, ওরিয়ন ফার্মা, পদ্মা অয়েল, রেনাটা, রবি আজিয়াটা, সায়হাম কটন, শাশা ডেনিমস, সোনালী পেপার, সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স, শাইনপুকুরসিরামিকস, শাহজিবাজার পাওয়ার, সামিট পাওয়ার ও ইউনাইটেড পাওয়ার।
২০২২ সালের ২৮ জুলাই সর্বশেষ দফায় ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল বিএসইসি শেয়ারবাজারের পতন ঠেকাতে।ফ্লোর প্রাইসের কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি বড় অংশের শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইসে আটকে যায়। এতে করে প্রায় দেড় বছর এসব কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন হচ্ছে না বললেই চলে। ফলে পুঁজিবাজারেও একধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। এ অবস্থায় বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।
তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে এত দিন ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়নি। বিএসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নির্বাচনের পর বাজারে কিছুটা গতি ফিরলে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়াহবে। তারই অংশ হিসেবে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার আদেশ জারি করা হলো।
তবে ৩৫ টি কোম্পানির মধ্যে বেশিরভাগই বড় মূলধনী কোম্পানি ,তবে এর মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি আছে যাদের Paid Up Capital খুব একটা বেশি নয়।
শেয়ারে বিনিয়োগ করে এমন কয়েকজন ঢাকা শেয়ার বাজার ডটকমকে মোবাইলে জানিয়েছেন কেন এই ৩৫ টির ফ্লোর তোলা হলনা।এর সদুত্তর তাদের দেয়া যায়নি।
অবশ্য যাদের শেয়ারের দামের উত্থান–পতনে সূচকের ওপর প্রভাব না ফেলে তেমন ৩৫টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বহাল রাখা হয়েছে এমন কথা বলা হলেও একথা সত্য ৩৫ টি কোম্পানির মধ্যে কয়েকটি আছে যাদের সূচকে কোন প্রভাব নেই,আবার ফ্লোর উঠে গেছে এমন অনেক কোম্পানি আছে যাদের কারণে সূচকের উঠানামার প্রভাব হতে পারে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।