সুস্বাস্থ্যের জন্য ভাল ঘুম : পর্ব-৫
অনিদ্রা কি এবং কেন?
অসুস্থতা কিম্বা মানসিক উত্তেজনার কারণে ২-১ রাত ঘুমের সমস্যা হলে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নাই। কিন্তু কোন কারণে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম থেকে বঞ্চিত হলে তা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যত দিন যাচ্ছে, মানুষের ঘুমের সমস্যা তত বাড়ছে।

অনিদ্রা বা Insomnia কি?
দীর্ঘ সময় শুয়ে থেকেও ঘুম না আসা, বেশিক্ষণ ঘুমিয়ে থাকতে না পারা কিংবা আগেই ঘুম ভাঙা, পূনরায় ঘুমাতে না পারা, হালকা-পাতলা ঘুম হলেও সারাদিন মাথাব্যথা ও ক্লান্তি।
অনিদ্রার কারণ :
১. ক্রনিক ডিজিজ – ক্রনিক পেইন, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হার্ট ডিজিজ, এজমা, গ্যাস্টিক, আর্থ্রাইটিস, অটো-ইমিউন ডিজিজ ইত্যাদি ক্রনিক ডিজিজ হতে অনিদ্রা হতে পারে।
২. এলোমেলো ঘুমের সিডিউল – একেক দিন একেক সময়ে ঘুমাতে যাওয়া।
৩. বদভ্যাস – রাত জেগে টিভি দেখা, মোবাইল দেখা, ইন্টারনেট, ভিডিও গেইম খেলা, আড্ডা দেয়া ইত্যাদি।
৪. স্ট্রেস – পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক সমস্যা, মানসিক সমস্যা, আতঙ্ক, ভয়, শারীরিক স্ট্রেস ইত্যাদি।
৫. ডিপ্রেশন – প্রিয়জনের মৃত্যু বা অসুস্থতা, ডিভোর্স, ব্যবসায় লোকসান, বেকারত্ব ইত্যাদি।
৬. ব্লু লাইট – ঘুমের আগে অনেকক্ষণ স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টিভি, এলইডি ইত্যাদি ব্লু লাইট উদ্রেককারী ডিভাইস চালানো।
৭. রাতের খাবার – বিছানায় যাওয়ার ঠিক আগে ভরপেট খাওয়া – বিশেষ করে ডিপ ফ্রাই, রেড মিট, প্রসেসড ফুড, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি।
৮. ক্যাফেইন, নিকোটিন ও এলকোহল – বিকাল, সন্ধ্যা ও রাতে কফি, চা, ডার্ক চকলেট খেলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। সিগারেটের নিকোটিন ঘুমের বাঁধা সৃষ্টি করে। মদ্যপান স্বাভাবিক ঘুম নষ্ট করে দেয়।
৯. কতিপয় ঔষধ বা ড্রাগস – উচ্চ রক্তচাপ, এজমা, ডিপ্রেশন ইত্যাদির ঔষধ, পেইনকিলার ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করে।
চলবে……