রাষ্ট্র মালিকানাধীন ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফছানা বিলকিসের স্বাক্ষর করা পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত বৃহস্পতিবার এমডিদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ব্যাংক ছয়টির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানদের চিঠি দিয়েছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে—সোনালী ব্যাংক, বিডিবিএল , রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক।
জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর পর্ষদ নতুন করে সাজানো হচ্ছে। আগে বদলানো হয়েছে ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানদের। এরপর বদলানো হয়েছে এবং হচ্ছে পরিচালক অর্থাৎ পর্ষদ সদস্যদের। এবার হাত দেওয়া হয়েছে এমডিদের ব্যাপারে।
আফজাল করিম ২০২২ সালের আগস্ট থেকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে সোনালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে আছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) এমডি ছিলেন।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) এমডি মো. হাবিবুর রহমান গাজী ব্যাংকটিতে যোগ দেন ২০২২ সালের নভেম্বরে। এর আগে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের ডিএমডি ছিলেন।
রূপালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরও ২০২২ সালের আগস্ট থেকে দায়িত্বে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে জনতা ব্যাংকের এমডি মো. আবদুল জব্বার। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) এমডি ছিলেন। তারও আগে ছিলেন জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি)।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দেন মো. আনিসুর রহমান। এর আগে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের ডিএমডি ছিলেন। এ বছরের ৩১ মার্চ তিন বছরের নিয়মিত মেয়াদ শেষ হলে তাঁকে আবার এক বছরের জন্য বেসিক ব্যাংকের এমডি নিয়োগ দেওয়া হয় গত ১১ এপ্রিল।
অগ্রণী ব্যাংকের এমডি মো. মুরশেদুল কবীরও ২০২২ সালের আগস্ট থেকে দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি ছিলেন। তারও আগে তিনি ছিলেন জনতা ব্যাংকের ডিএমডি।
বেসিক ব্যাংক ছাড়া অন্য পাঁচ ব্যাংকের এমডিরা নিয়োগ পেয়েছিলেন তিন বছরের জন্য। নিয়োগের তারিখ থেকে গতকাল তাঁদের চুক্তি বাতিলের সুপারিশের দিন পর্যন্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পাঁচ ব্যাংকের এমডিরই চাকরির মেয়াদ বাকি ছিল গড়ে এক বছর করে, আর বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ ছিল সাত মাস।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডি নিয়োগ দেওয়া হয় চুক্তিভিত্তিক। আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠানো চিঠিতে চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে নতুন এমডির বিষয়ে চিঠিতে কিছু বলা হয়নি। খুব শিগগিরই ব্যাংকগুলোতে এমডি নিয়োগ দেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।