দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তে গত সপ্তাহে সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ২.৬৫ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৬১৬ কোটি টাকা।

শেয়ারবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪২.১৫ পয়েন্ট বা ২.৬৫ শতাংশ বেড়ে ৫৪৯৭.৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫৩৫৫.৪১ পয়েন্ট। এছাড়া গত সপ্তাহে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২৮.৭৭ পয়েন্ট বা ১.৫০ শতাংশ বেড়ে ১৯৫১.৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১৯২২.৫৭ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ২৫.১৭’পয়েন্ট বা ২.১৩ শতাংশ বেড়ে ১২০৮.৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১১৮৩.৫২ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪১২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ৩২৯ টির, দাম কমেছে ২৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪০টির দাম। এছাড়া লেনদেন হয়নি ১৯টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, পাওয়ার গ্রিড, ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির (বিএটিবিসি) শেয়ার। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২,৪৬৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ২,৮০২ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫.১৩ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১.৬৯ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ১০.৮৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাওয়ার খাত। মোট লেনদেনের ৯.৪৯ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। আর ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮.২৬ শতাংশ।
আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। এর মধ্যে সেবা খাতে ৯.১৬ শতাংশ, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ৮.২১ , কাগজ খাতে ৬.২৪, ভ্রমণ খাতে ৬.১৪ এবং সাধারণ বীমা খাতে ৫.৭৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

অপরদিকে দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২.৪৮ শতাংশ বেড়ে ১৫৪৬৩.৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫০৮৯ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে ২.৫২ শতাংশ বেড়ে ৯৩১৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৯০৮৬ পয়েন্টে। সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৬৬৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩০৮ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৭টির, কমেছে ৬৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির বাজারদর।
বাজার বিশ্লেষকেরা আশা করছেন ভালো মান সম্পন্ন শেয়ার লেনদেনে ফিরলে বাজার চাঙ্গা হবে, পাশাপাশি বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।