অর্থ লিপি

১৫ জুন ২০২৬ সোমবার ১ আষাঢ় ১৪৩৩

নানামুখী প্রচার ও অপপ্রচারের শিকারে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের পোশাক শিল্প

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্বমন্দা ছাড়াও শ্রমিক আন্দোলনসহ নানামুখী প্রচার ও অপপ্রচারের শিকার হয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের তৈরি  নভেম্বর মাস শেষ হতে চললেও আসন্ন ফল মৌসুমে বিদেশি তেমন অর্ডার পায়নি বাংলাদেশ। ফলে এসব অর্ডার ভিয়েতনাম কিংবা কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর হাতে চলে যাওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে বর্তমানে স্প্রিং-সামার মৌসুমের পণ্য উৎপাদন চলছে। আগামী মার্চ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এ মৌসুমের পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি চলবে বায়ারদের কাছে পণ্য পাঠানো। কিন্তু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে ফল মৌসুমের অর্ডার নিয়ে। চলতি নভেম্বর মাস থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম এ মৌসুমের অর্ডার আসার কথা থাকলেও বিদেশি বায়ারদের কাছ থেকে তেমন সাড়া মিলছে না জানালেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, নভেম্বর মাসে যে অর্ডারগুলো আসার কথা ছিল, সেগুলো এখনও ওইরকম আশানুরূপ হারে আমরা পাইনি।

আন্দোলনের প্রভাব আগামী কতদিন পর্যন্ত চলবে সেইটি নিয়ে বায়াররা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সে জন্য যে পণ্যগুলো মার্চ থেকে মে মাসে ডেলিভারি হওয়ার কথা, সেগুলোর অর্ডার তারা আমাদের এখনও দিচ্ছেন না, রেখে দিয়েছেন।

এমনিতেই বিশ্বমন্দার কবলে পড়ে গত বছরের বেশি সময় ধরে ওঠানামা হচ্ছে দেশের গার্মেন্টস শিল্পের প্রবৃদ্ধি। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ঢাকা জোনের গার্মেন্টসে প্রায় ১৪ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও নভেম্বর মাসের ২০ দিনে ২০ শতাংশ নেমে গেছে। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও বায়ারদের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ায় চলতি অর্থ বছরের রফতানি আয় ধরে রাখা বর্তমানে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা হলো বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের মূল বাজার। আর এসব দেশেই বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে অপপ্রচারের মাত্রা তুলনামূলক বেশি। তাই বায়ারদের আস্থা ফেরাতে দেশগুলোর বাংলাদেশ দূতাবাসকে এখনই ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা।

সবশেষ বেতন কাঠামো অনুসারে, ৫৬ শতাংশ হারে দেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হয়েছে। এ খরচ মেটানোর জন্য বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকরা আবেদন জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল বায়ার প্রতিষ্ঠানের কাছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বায়ারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তারপরও আগামী মাসে কার্যকর হবে নতুন এ বেতন কাঠামো। আর এ নিয়েই সংশয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।