অবশেষে বহুল আলোচিত ব্যাংক এক্সপোজার বিষয়টির অবসান হলো। এখন থেকে শেয়ার বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাব থেকে বাদ যাবে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শরিয়াহভিত্তিক বন্ড। এগুলো এখন থেকে আর ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাবে ধরা হবে না। সংশোধিক নতুনব্যাংক কোম্পানি আইনে এ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এখন ব্যাংকগুলোকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শরিয়াহ ভিত্তিক বন্ডে বিনিয়োগ বাদ দিয়ে ‘শেয়ার বাজারের বিনিয়োগের’ হিসাব করতে বলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ৩১ শে আগস্ট ২০২৩, বাংলাদেশ ব্যাংক এ–সংক্রান্ত নতুননির্দেশনা জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এ নির্দেশনায় শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাব করার একটি ছকও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। উক্ত ছক মেনেই এখন থেকে ব্যাংকগুলোকে তাদের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের হিসাব জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। নির্দেশনায় বলা হয়, আগে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা বা এক্সপোজার লিমিট হিসাবের ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ড, সব ধরনের ডিবেঞ্চার, করপোরেট বন্ড ও অন্যান্য নিদর্শনপত্রকে হিসাবে ধরা হতো। নতুন আইনে বিনিয়োগ সীমার হিসাব থেকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শরিয়াভিত্তিক যে কোন নিদর্শনপত্রকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মিউচুয়াল ফান্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগকে পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাবে ধরা হবে।
উল্লেখ্য, শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাবের ক্ষেত্রে শেয়ারের বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যকে বিবেচনা বা হিসাবে ধরার। গত বছরের ৪ আগস্ট এক নির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার–সংশ্লিষ্টদের এ দাবি মেনে নেয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা হিসাবের ক্ষেত্রে শেয়ারের ক্রয়মূল্যকে বাজারমূল্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এরপর থেকে বিনিয়োগ হিসাবের ক্ষেত্রে শেয়ারের ক্রয়মূল্যকে ‘বাজারমূল্য’ হিসেবে দেখিয়ে আসছে ব্যাংকগুলো।
বিনিয়োগ হিসাবায়নের পাশাপাশি ব্যাংকের বিনিয়োগ থেকে বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগকে বাদ দেওয়ার দাবিও তোলা হয় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। গতকাল নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এ বিষয়টি পরিস্কার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বাজারের ক্রান্তিলগ্নে এমন একটি সিদ্ধান্ত বাজারকে গতিময় করে তুলবে এই আশা শেয়ার বাজার সংশ্লিষ্ট সব মহলের।