অর্থ লিপি

৩০ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

স্টারলিংকের বাংলদেশে প্রবেশ আটকে আছে নজরদারির প্রশ্নসহ কিছু নিয়ম কানুনে

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মহাকাশবিষয়ক সংস্থা স্পেসএক্সের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্টারলিংক ইন্টারনেট বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান মাস তিনেক আগে বাংলাদেশে টেলিকম ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে যায় । তাদের প্রযুক্তি এনে পরীক্ষা–নিরীক্ষাও করা হয়েছে। তাতে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে স্টারলিংক। তবে বাংলাদেশ সরকারের বিধিসম্মত নজরদারির যে নীতি আছে, সে প্রশ্নে স্টারলিংককে অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত আটকে আছে।

প্রচলিত ইন্টারনেট সেবা মুঠোফোন টাওয়ার ও সাবমেরিন ক্যাবলনির্ভর হলেও স্টারলিংক কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেয়। এ কারণে পৃথিবীর দুর্গম অঞ্চলেও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। বিশ্বের প্রায় ৫০টির বেশি দেশে স্টারলিংকের কার্যক্রম রয়েছে।

গত ২৬ ও ২৭শে জুলাই স্টারলিংকের প্রতিনিধি জোয়েল মেরিডিথ ও পার্নিল উর্ধারশির সঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশে স্টারলিংকের ব্যবসা, প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা ও বাংলাদেশের আইনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

দুই বছর ধরে স্টারলিংক বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তারা দুবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। বিডা বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) জানায়। তবে শুরুর দিকে স্টারলিংকের প্রতি বিটিআরসির অনাগ্রহ ছিল। চলতি বছর বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড স্টারলিংকের প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য বিটিআরসির অনুমোদন নেয়। পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য বাংলাদেশে স্টারলিংকের কিছু প্রযুক্তিও গত জুলাই মাসে বাংলাদেশে আসে।

বাংলাদেশের জন্য স্টারলিংকের প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা নিয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতে সরকারের বিধিসম্মত প্রবেশাধিকারের (ল’ফুল ইন্টারসেপশন) বা নজরদারির সুযোগ। গত জুলাইয়ের বৈঠকেই এ শর্তের কথা স্টারলিংককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্যাটেলাইট কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে টেলিযোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হলে কোম্পানির প্রযুক্তি দিয়ে সেবা দেওয়া যায়। কিন্তু স্যাটেলাইট কোম্পানির এই প্রযুক্তি গাজীপুরে রাখা। এটা দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় নেওয়া এবং সেখানে স্থাপন (সেটআপ) করা পর্যন্ত পুরো বিষয়টি সময় সাপেক্ষ। তবে স্টারলিংকের প্রযুক্তি যেকোন স্থানেই রাখা যায় এবং এর সেটআপে তেমন সময় লাগে না। ফলে কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যাহত হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্টারলিংকের প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা দেওয়া সম্ভব।

জানা যায় বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা–নিরীক্ষা হয়েছে। এটা খুবই সহায়ক। তবে স্টারলিংকের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশের জন্য স্টারলিংকের প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা নিয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতে সরকারের বিধিসম্মত প্রবেশাধিকারের (ল’ফুল ইন্টারসেপশন) বা নজরদারির সুযোগ। গত জুলাইয়ের বৈঠকেই এ শর্তের কথা স্টারলিংককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দেশের আইনে টেলিযোগাযোগ খাতে সরকারের যেসব অনুমোদিত সংস্থা আছে, তারা বিধিসম্মত প্রবেশাধিকার বা নজরদারির সুযোগ পায়। জনগণের কাছে কী যাচ্ছে, কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে কি না, এসব যেন সরকার নজরে রাখতে পারে। এসব শর্তের কথা স্টারলিংককে বলা হয়েছিল।

বাংলাদেশে ব্যবসা করার কিছু নীতি আছে। স্টারলিংককে বিডার কাছে আবেদন করতে হবে, স্যাটেলাইটের ব্যান্ডউইডথের জন্যও অনুমতির ব্যাপার আছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, সব ধরনের ব্যান্ডউইডথে বিটিআরসির নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা আছে। স্টারলিংক বিধিসম্মত নজরদারির সুযোগ কীভাবে দেবে, সেটা এখনো জানায়নি। তাদের সংযোগ থেকে পর্ন, জুয়ার সাইট বন্ধের সুযোগ দিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করার কিছু নীতি আছে। স্টারলিংককে বিডার কাছে আবেদন করতে হবে, স্যাটেলাইটের ব্যান্ডউইডথের জন্যও অনুমতির ব্যাপার আছে।

স্টারলিংকের সংযোগ মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু দেশে এ সেবা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে স্টারলিংকের কার্যক্রম রয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদের অপেক্ষায় আছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানে ২০২৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত জুলাইয়ের বৈঠক নিয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ বলেছিলেন, দুর্গম অঞ্চলে ও দুর্যোগকবলিত জনগোষ্ঠীকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দিতে স্টারলিংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই পাইলট কার্যক্রম শুরুর আশা করেছিলেন তিনি।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।