আজ বুধবার (৯ জুলাই) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন উভয়ই বেড়েছে। আজ ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১.০৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের ব্যবধানে এটিই ঢাকার বাজারে সর্বোচ্চ লেনদেন।
আজ ডিএসইতে বহুদিন পর লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি এবং সূচক ছাড়িয়েছে ৫ হাজার পয়েন্ট।
আজ লেনদেন শুরুর দিকে সূচক কম বাড়লেও দিন শেষে ৫৩.৮২ সূচক বেড়ে আজকের লেনদেন শেষ হয়েছে। সূচকের পাশপাশি গত কার্য দিবসের তুলনায় লেনদেন ৮৮.৮৭ কোটি বেড়েছে ।
আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ৫৩.৮২ পয়েন্ট বেড়েছে। বর্তমানে সূচকটি অবস্থান করছে ৫০৩৫.৪৬ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ১০.৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ১০৯৪.১১ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ১৮.৮২ পয়েন্ট বেড়ে ১৮৯৪.২০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

আজ ডিএসইতে ৬৯০.৬২ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ৬০১.৭৫ কোটি টাকা। আজ গত কার্য দিবসের চেয়ে লেনদেন বেশি হয়েছে ৮৮.৮৭ টাকার।
আজকের সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ওয়ালটন, ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক শেয়ারের।
ডিএসইতে আজ মোট ৩৯৭ টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ২৭৩ টির, কমেছে ৭৮ টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৬টির বাজারদর।
আজ বাজার চলাকালীন সময়ে বেশ কয়েকটি হাউজের অফিসে গিয়ে হাউজের অফিসার এবং বিভিন্ন বিনিয়োগকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেল, সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হওয়াতে বিনিয়োগকারীদের মনে যেন আশার আলো ফুটে উঠেছে।তাদের কথা বাজার ঝিমিয়ে না থেকে যেকোনো খাতের শেয়ারের বাজার মুভমেন্ট হলেই বাজারের গতি বাড়বে বলে তারা ধারণা করছেন। কেননা যে কোন শেয়ার বিক্রি করে সেই টাকা তারা অবশ্যই অন্য কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন, যার ফলে বাজারে একটি চাহিদা সৃষ্টি হতে পারে।
প্রবীন বাজার বিশ্লেষকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন ও একই রকম আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তিনি বলেন বিভিন্ন খাতের শেয়ারের প্রতি চাহিদা বাড়া এই মুহুর্তে বাজারের জন্যে একটি দারুন ইতিবাচক ঘটনা। দাম বাড়াতে ছোট বড় কিছু বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে তারাই অন্য খাতের শেয়ারে টাকা বিনিয়োগ করলে বাজার অটোমেটিক ভালো হবে। টাকার (ফান্ড) রোলিং হলেই তো বাজারের মুভমেন্ট বাড়বে। বাজারে গতি আসবে।
তিনি আশাবাদী এভাবে বিভিন্ন খাতের প্রতি চাহিদা অপরিবর্তিত থাকলে খুব শীঘ্রই বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে কিছুটা গতি সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব শেয়ারের দামও বাড়ছে। তাতে বাজারের সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও গতি ফিরে এসেছে।