দেশের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের(SALVOCHEM) পর্ষদ ৬৪ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি ৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এসব শেয়ার বিদ্যমান উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের মধ্যে ইস্যু করা হবে।
জানা গেছে, কোম্পানিটি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানিটি কার্যকরী মূলধন বাড়াতে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যবহার করবে। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য কোম্পানিটি এলসির মাধ্যমে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা উৎপাদনি মেশিন আমদানিতে ব্যয় করবে।
এছাড়া সালভো কেমিক্যালের নাম পরিবর্তনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড’-এর পরিবর্তে কোম্পানিটির নতুন নাম হবে ‘সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি’। সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এ লক্ষ্যে আগামী ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টায় কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এ–সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ জুন।
ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণে বেশ কিছু পন্থা বেঁধে দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাবাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সেখানে বলা হয়, কয়েকটি পন্থায় মূলধন বাড়াতে পারবে ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলো। তার মধ্যে রয়েছে নতুন করে শেয়ার ইস্যু করে বা বাজার থেকে শেয়ার কিনে। এর বাইরে বিদ্যমান উদ্যোক্তা–পরিচালকদের বাইরে যাঁদের হাতে কোম্পানিটির ২ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে, তাঁদের পর্ষদে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এ শর্ত পূরণ করতে পারবে কোম্পানিগুলো। বিএসইসিরএসব শর্তের মধ্যে সালভো কেমিক্যাল বেছে নিয়েছে নতুন শেয়ার ইস্যুর পথ।
২০১১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটিটাকা। পরিশোধিত মূলধন ৬৫ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩১.৯৮কোটি টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৫০ লাখ ২২ হাজার ৭৯৩। এরমধ্যে ২৫.১৮ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৪.১৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ওবাকি ৬০.৬৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
ইতিপূর্বে বেশকিছু কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ইস্যু করে মূলধন বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ।যে সব কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে সেই সব কোম্পানির মালিকপক্ষ লাভবান হলেও বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।তাই সার্বিকদিক বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।