শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় শর্ত হলো সব খাতের সমান অংশগ্রহণ। বাজার যখন কেবল এক বা দুটি খাতের ওপর ভর করে চলে, তখন সেই গতি খুব একটা টেকসই হয় না।
তবে বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজার সেই সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
খাতভিত্তিক নির্ভরতা হ্রাস একটা সময় দেখা যেত, ইন্স্যুরেন্স, ব্যাংক বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট খাতের শেয়ারের দাম একটু ওঠানামা করলেই পুরো বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পরতো। এতে বিনিয়োগ ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তবে বর্তমানে এই একমুখী প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। বিভিন্ন খাতের শেয়ার পর্যায়ক্রমে লেনদেনে অংশ নিচ্ছে, যা বাজারকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলছে।
সুস্থ সবল ‘মানিফ্লো রোটেশন’ বাজারে এখন একেক দিন একেক খাতের মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে, যা মূলত ‘মানিফ্লো রোটেশন’-এর লক্ষণ। অর্থাৎ, স্মার্ট বিনিয়োগকারীরা এক খাত থেকে মুনাফা তুলে নিয়ে অন্য সম্ভাবনাময় খাতে বা স্টকে বিনিয়োগ করছেন। এই প্রক্রিয়ার ফলে বাজারে নিয়মিত নতুন নতুন লেনদেন তৈরি হচ্ছে, যা প্রতিদিনের ভলিউম বা লেনদেনের পরিমাণ ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।
লেনদেনের গভীরতা ও তারল্য বৃদ্ধি যখন বাজারে বিভিন্ন খাতের শেয়ার একসঙ্গে সক্রিয় থাকে, তখন কেবল লেনদেনই বাড়ে না, বরং বাজারের গভীরতা (Depth) তৈরি হয়। এর ফলে বড় এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ (Entry) ও বের (Exit) হতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে বাজারের উন্নত পরিবেশের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।
অতিরিক্ত উত্তাপ ও ধসের ঝুঁকি কম একটি নির্দিষ্ট খাতে অতিরিক্ত অর্থ প্রবেশ করলে সেখানে ‘ওভারহিট’ বা কৃত্রিম উম্মাদনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যার ফলে পরে বড় ধরণের ধস আসতে পারে। কিন্তু বর্তমানে বিনিয়োগ বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে যাওয়ায় সেই ঝুঁকি অনেকটাই প্রশমিত হচ্ছে। রোটেশন পদ্ধতি বাজারের চাপকে বণ্টন করে দিচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব যখন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দেখেন যে বাজারের সব খাতেই মুনাফার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তখন তাদের অংশগ্রহণ ও আস্থা বেড়ে যায়। এতে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।
সতর্কতার প্রয়োজন বাজারের এই ইতিবাচক ট্রেন্ডের মধ্যেও সতর্কতার জায়গা রয়েছে। সব স্টকের মুভমেন্ট মানেই যে তার ফান্ডামেন্টাল শক্তিশালী, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় স্বল্পমেয়াদি কারসাজি বা স্পেকুলেশনও থাকতে পারে। তাই বাজারের বর্তমান ধারা ইতিবাচক হলেও বিনিয়োগের আগে প্রতিটি শেয়ারের মৌলভিত্তি যাচাই করা জরুরি।
শেয়ারবাজারের বর্তমান চিত্র বলছে, খাতভিত্তিক সীমাবদ্ধতা ভেঙে স্টক রোটেশন বাড়া একটি শক্তিশালী পজিটিভ সিগন্যাল। এটি কেবল সূচক বাড়াচ্ছে না, বরং বাজারের জন্য একটি টেকসই ও স্থিতিশীল ভিত্তি তৈরি করছে।
Author
-
মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার দেশের পুঁজিবাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত। তিনি উপ-মহাব্যবস্থাপক, জাহান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের। পোর্টফোলিও পরিচালনায় সুদক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি ২০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সহিত পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত আছেন।
View all posts