অর্থ লিপি

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

রোগ মুক্তির শ্রেষ্ঠ মেডিসিন ফাস্টিং : ৩য় পর্ব

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

না খেলে শক্তি পাব কিভাবে ?  (২য় অংশ)

স্টেজ – ৩: গ্লুকোনিওজেনেসিস (১৬-৩০ ঘন্টা)

এই স্টেজে দেহ সঞ্চিত ফ্যাট ও দুর্বল প্রোটিন ভেঙ্গে শক্তি উৎপাদন করে। ফ্যাট টিস্যুতে সঞ্চিত ট্রাইগ্লিসারাইড ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল তৈরি করে। দেহের অধিকাংশ অর্গান ও টিস্যু এই ফ্যাটি এসিড থেকে শক্তি উৎপাদন করে। কিন্তু ব্রেইন, লোহিত রক্তকণিকা সহ কতিপয় কোষ ফ্যাটি এসিড থেকে শক্তি উৎপাদন করতে পারে না। তাহলে উপায়?

প্রধানত ব্রেইনে সরবরাহের জন্য দেহের অতিরিক্ত প্রোটিন (এক্সট্রা স্কিন, কানেক্টিভ টিস্যু, এক্সট্রা ব্লাড ভেসেল) এবং দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ প্রোটিন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে গ্লুকোনিওজেনেসিস (Glucosinolates) বলে। স্থুল ব্যক্তির শরীরে ২০% থেকে ৫০% এক্সট্রা প্রোটিন আছে, যার কিছু অংশ ভেঙে গেলেও কোন সমস্যা নেই। ফাস্টিং এর আর্লি স্টেজে এই ঘটনা ঘটে – অচিরেই ব্রেইনের জন্য অন্য ফুয়েল তৈরি করা হয়।

এই স্টেজে অতি গুরুত্বপূর্ণ অটোফেজি ঘটে – যা পরে আলোচনা হবে।

স্টেজ – ৪: কেটোসিস (২ দিন থেকে ১ সপ্তাহ)

ব্রেইন ও লোহিত রক্তকণিকা ছাড়া প্রায় সকল কোষ ফ্যাটি এসিড থেকে শক্তি উৎপাদন করে। কিন্তু ব্রেইন? আমাদের লিভার ফ্যাটি এসিড ভেঙে কিটোন বডি (ketone bodies) তৈরি করে – এই প্রক্রিয়াকে কেটোসিস (ketosis) বলে। কিটোন বডি ব্লাড-ব্রেইন ব্যারিয়ার ভেদ করে ব্রেইনে পৌঁছাতে পারে।

কিটোন বডি দিয়ে ব্রেইনের প্রায় ৭০% শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। ব্রেইনের বাকি ৩০% জন্য লিভার ট্রাইগ্লিসারাইড থেকে প্রাপ্ত গ্লিসারল থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে। অর্থাৎ লিভার ব্রেইনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ফুয়েল (কিটোন বডি ও গ্লুকোজ) সরবরাহ করে।

সুতরাং ১ সপ্তাহ পর্যন্ত কেবল পানি পান করলেও (কতিপয় মিনারেল) দেহ অনায়াসে পর্যাপ্ত শক্তি নিয়েই টিকে থাকতে সক্ষম।

স্টেজ – ৫: প্রোটিন সংরক্ষণ (>১ সপ্তাহ)

যারা অনশন করে কিম্বা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে, তারা দেড়-দুই মাস টিকে থাকতে পারে। এমনকি তাদের কোন ক্ষুধাও লাগে না। এক সপ্তাহ পরে দেহ তার প্রোটিনকে সংরক্ষণ করে এবং যে পর্যন্ত দেহে সঞ্চিত চর্বি শেষ না হবে, সে পর্যন্ত সকল অঙ্গ সুস্থ থাকে। কিন্তু সঞ্চিত চর্বি বা ফ্যাট শেষ হয়ে গেলে বিপদ। কারণ তখন দেহের সকল প্রোটিন ভেঙে শক্তি উৎপাদন হয় – ফলে দেহ অস্থি-কঙ্কাল-সার হয়ে যাবে।

চলবে….

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।