দেশে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে গত ১৬ফেব্রুয়ারি। সময় শেষ হয়ে গেলেও এখনো অনেকেই আছেন যাঁরা রিটার্ন জমা দেয়নি। যারা রিটার্ন জমা জমা দেয়নি তারা এখনও রিটার্ন জমার দিতে পারবে তবে খরচ একটু বাড়বেপাশাপাশি পাবেনা কোন কর রেয়াত সুবিধা ।
যারা এখনো রিটার্ন জমা দেয়নি তারা এখন রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় তাদের করের টাকার ওপর ২ শতাংশ হারে সুদ আরোপিত হবে। মিলবে না বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত, থাকবে না কর অব্যাহতি। তবে রিটার্ন দিতে পারবেন।
দেশে এইবার তিন দফা সময় বাড়ানোর পর ১৬ ফেব্রুয়ারি রিটার্ন জমার নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কারণে এখন যারাই রিটার্ন জমা দিবে তাদের জরিমানা দিয়েই রিটার্ন দিতে হবে।
রিটার্ন জমার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কারণে কর দিবসে যে পরিমাণ কর অপরিশোধিত থাকবে, তার ওপর ২০২৩ সালের আয়কর আইনের ১৭৪ ধারা অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশহারে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে। আয়কর রিটার্ন দেওয়ার শেষ দিন হলো কর দিবস।
এখন যারা রিটার্ন জমা দেবেন, তারা অনলাইন ও অফলাইন (কাগুজে)—দুইভাবে এখন রিটার্ন দিতে পারবেন। অনলাইনে দেওয়ার এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে রিটার্ন দিতে পারবেন। সে জন্য কারও অনুমতির প্রয়োজন হবে না। সে জন্য ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। সর্বোচ্চ ২৪ মাসের জন্য ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত এই সুদ আরোপিত হবে; ৩৬৫ দিনই অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া যাবে।
অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট (ডেবিট/ক্রেডিটকার্ড) ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে করদাতারা কর পরিশোধ করতে পারছেন। পাশাপাশিজমা দেওয়া রিটার্নের কপি, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, আয়কর সনদ, টিআইএন সনদ ডাউনলোড ও প্রিন্ট করার সুবিধা পাচ্ছেন।
গত কর বছরে ১৪ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন এবং আরও ১৪লাখের বেশি করদাতা ই–রিটার্নের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন।
সরাসরি কর কার্যালয়ে গিয়ে সনাতনী পদ্ধতিতে হাতেহাতে কাগুজে রিটার্ন দিতে চাইলে করের টাকার ওপর ২ শতাংশ সুদ হিসাব করে করের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। অবশ্য এরআগে আপনি বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত এবং কর অব্যাহতি নিতে পারবেন না। এরপর রিটার্ন জমার পর পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে প্রাপ্তি সনদদেবেন উপ–করকমিশনার।
গত কর বছরের কর দেয়ার জন্যে অন্য বছরের মতো কর অঞ্চলগুলোতে তেমন একটা ভিড়ছিল না। সরকার পরিবর্তনের পরে অনলাইনে রিটার্ন জমা উৎসাহিত করছে এনবিআর। বর্তমানে এক কোটি ১১ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারী আছেন। প্রতি বছর গড়ে ৪০ লাখ রিটার্ন জমা পড়ে। রিটার্ন জমার এ বছরের হিসাব এখনো চূড়ান্ত করেনি এনবিআর।
এনবিআরের কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন টিআইএনধারীদের দুই–তৃতীয়াংশই রিটার্নদেন না। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি সেবা পেতে টিআইএন ও রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে অনেকেই শুধু সেবা পেতে টিআইএন নেন।
সাবেক এক কর কর্মকর্তা জানান সরকার তথা এনবিআরের উচিত দেশে এক কোটি ১১ লাখকর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারী থাকলে এত কম মানুষ কেন রিটার্ন জমা দিচ্ছেন সেই বিষয়টি পরীক্ষা করা, পাশাপাশি এনবিআরের উচিত সারাদেশে কিভাবে টাকাওলাদের করের আওতায় আনা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া।