ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘নজিরবিহীন আস্থাপূর্ণ’ সম্পর্ক রয়েছে এবং রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে ভারত যে অবস্থান নিয়েছে তার জন্য কোনো সমালোচনার মুখোমুখি হয়নি দিল্লি। এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এসব কথা বলেন।
মোদি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে আস্থাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠার মূল কারণ হলো সামরিক সহযোগিতা এবং এটি দুই দেশের সম্পর্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। বর্তমানে তা বাণিজ্য, জ্বালানি এবং শক্তি খাতেও বর্ধিত হয়েছে।’
ওয়াশিংটন ভারতকে রাশিয়ার তেল এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ ক্রয় থেকে দূরে রাখতে চায় এবং এ বিষয়ে আরও ইতিবাচক ভূমিকা চায় কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি না, যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনে মনোভাব খুব বেশি পরিচিত।’
নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, ভারতের অবস্থান সারা বিশ্বে সুপরিচিত এবং সবাই এ বিষয়ে ভালভাবে অবগত। বিশ্বের পূর্ণ আস্থা রয়েছে যে, ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার শান্তি।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা বলেছেন। তিনি তাদের বলেছেন, সংকট অবসানে ভারত যা করতে পারে তা করবে। পাশাপাশি সংঘাত অবসান, স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত প্রকৃত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে।
ওয়াল স্ট্রিটকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মোদি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে আলোচনার সময় প্রতিরক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট আলোচনা প্রাধান্য পাবে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র মার্কিন ড্রোন কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। কিন্তু নানা ধরনের কূটনৈতিক জটিলতার কারণে তা আর কেনা হয়ে উঠেনি। মোদির ওয়াশিংটন সফরে এ বিষয়ে চুক্তি হলে, ভারত বছরে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের সি-গার্ডিয়ান নামের সশস্ত্র ড্রোন কিনতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
মোদির ওয়াশিংটন সফরের সময় হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন জেনারেল অ্যাটমিকসের তৈরি ৩০টি সশস্ত্র এমকিউ-৯বি সি-গার্ডিয়ান ড্রোন দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মোদির সফরের সময় এ বিষয়ে চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
২০২০ সালে লাদাখের কাছে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সৈন্য মারা যাওয়ার পর থেকে ভারত ও চীনের সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটে। সেটিই ঘটনার পর উভয় দেশ ১৮ বার সামরিক আলোচনায় বসেছে। কিন্তু পরিস্থিতি খুব বেশি উন্নত হয়নি।
চীনের সঙ্গে শীতল সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি অপরিহার্য।’ এ সময় তিনি বলেন, ভারত তার সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদা রক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ওয়াল স্ট্রিটকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মোদি জাতিসংঘের সংঘাত নিয়েও কথা বলেন। তিনি এসময় আবারও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো সংস্কারের তাগিদ দেন।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।