বৃহস্পতিবার সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে ডলারের দাম ইউরোর তুলনায়। এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের মুদ্রানীতির ওপর প্রভাব পড়েছে। এতেই ডলারের দামে এমন বিপর্যয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের পদত্যাগের ঘোষণা নিয়ে খেলছেন। এর মূল লক্ষ্য তাঁর অবস্থানকে দুর্বল করা।
আরও পড়ুন: ১০০ ডলার দেশে পাঠালেই বাড়তি ৩০৭ টাকা বেশি
ইনটাচ ক্যাপিটাল মার্কেটসের এশিয়া এফএক্সের প্রধান কিরান উইলিয়ামস বলেন, ‘পাওয়েলের উত্তরসূরীর নাম ঘোষণার যেকোনো প্রাথমিক পদক্ষেপে বাজার ক্ষুব্ধ হতে পারে, বিশেষ করে যদি সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়।’
তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ফেডের স্বাধীনতার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে এবং সম্ভাব্যভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল করবে। যদি এটি হয়, তবে মুদ্রার হারের প্রত্যাশা পুনর্নির্ধারণ হতে পারে, ডলারের অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের সূত্রপাত করতে পারে এতে।
প্রতিবেদন বলছে, বুধবার ট্রাম্প পাওয়েলকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে অভিহিত করেন। এর কারণ তিনি সুদের হার দ্রুত কমাচ্ছেন না। ফেড চেয়ার সিনেটকে এদিনই বলেন, প্রেসিডেন্টের শুল্ক পরিকল্পনা মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির কারণে নীতিমালা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের সময় প্রকাশের পর দাতারা অর্থ ছাড় শুরু করেছে: অর্থ উপদেষ্টা
জুলাই মাসে ফেডের পরবর্তী সভায় সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে ২৫% করা হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে মাত্র ১২% ছিল এবং বছরের শেষ নাগাদ ৬৪ বেসিস পয়েন্টে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা গত শুক্রবার প্রায় ৪৬ বেসিস পয়েন্ট ছিল।
ইউরো ০.২% বৃদ্ধি পেয়েছে, ডলার পৌঁছেছে ১.১৬৮৭ –তে। ২০২১ সালের অক্টোবরের পর থেকে এটি ইউরোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। পরবর্তী চার্ট লক্ষ্যমাত্রা ১.১৬৯২ এবং ১.১৯০৯ ডলার। এ ছাড়া স্টার্লিং ০.২% বৃদ্ধি পেয়ে ১.৩৬৯০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ।
ডলার ২০১১ সালের পর থেকে সুইস ফ্রাঙ্কের বিপরীতে সর্বনিম্ন ০.৮০৩৩ এ দাঁড়িয়েছে। ১৮০.৫৫ এর কাছাকাছি সময়ে ইয়েনের ওপর ফ্রাঙ্কের মূল্য রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
ডলার ইয়েনের ওপর ০.২% কমে ১৪৪.৮৯–এ নেমেছে, অন্যদিকে ডলার সূচক ২০২২ সালের শুরুর দিক থেকে সর্বনিম্ন ৯৭.৪৯১ এ নেমে এসেছে।
আর্থিক পরিষেবা সংস্থা জেপি মরগান বুধবার সতর্ক করে দিয়েছে, শুল্কের প্রভাব মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করবে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে, যার ফলে মন্দার ৪০% সম্ভাবনা তৈরি হবে।