ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) এতদিন কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা চাইলেও দাম কমার কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দেয়ার প্রচলন শুরু করেছে।
সম্প্রতি জ্বালানি খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের (SUMITPOWER) শেয়ারের দাম কমার কারণ জানতে চেয়ে কোম্পানিটিকে চিঠি দেয় ডিএসই।
জবাবে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেয়ারের দাম কমার ক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালনা ও মুনাফা সংক্রান্ত অপ্রকাশিত কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই। কোনো কারণ ছাড়াই সামিট পাওয়ার লিমিটেডের শেয়ারের দাম কমছে। সামিট পাওয়ার লিমিটেড বাজার মূলধনে অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি হওয়ায় এর শেয়ারের সামান্য দরপতন ডিএসইর মূল্যসূচককে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। এর প্রেক্ষিতে ডিএসই কোম্পানিটির কাছে জানতে চায়, সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য আছে কি-না।
আজ বুধবার ডিএসই এ তথ্য জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত এক দশকের বেশি সময় পর দেশের শেয়ার বাজারে এই নিয়ে ২য় বারের মত কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম কমার কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে ২০১০ সালের আগে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল বলে ডিএসই সূত্র জানিয়েছে।
সামিট পাওয়ার লিমিটেডের (SUMITPOWER) তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত মার্চ মাসের শুরুতে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২৫ টাকা। পরে ধারাবাহিকভাবে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমে এখন তা ২০.২০ টাকা অবস্থান করছে।
অর্থাৎ, ৩ মাস ২০ দিনে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম কমেছে ৫ টাকা বা ২০ শতাংশ (প্রায়)। এই দাম কমার কারণ জানতে চেয়েই ডিএসই কোম্পানিটিকে চিঠি পাঠায়।
তবে সাম্প্রতিক বাজার পতনে শুধু সামিট পাওয়ার লিমিটেডের নয়, দেশের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। তাই অনেকের কাছে শুধু সামিট পাওয়ার লিমিটেডের শেয়ারের দাম কমার কারণ জানতে চাওয়া হাস্যকর মনে হতে পারে, তারপরও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি(ডিএসই) কে ধন্যবাদ দেয়াই যায় যে দেরিতে হলেও দাম কমার ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রচলন শুরু করলো।